ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আগাম সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির নবগঠিত প্রতিরক্ষা কাউন্সিল এক বিবৃতিতে বলেছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে ইরান আর শুধু প্রতিক্রিয়ামূলক নীতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে আগাম হামলার পথেও যেতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এ বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) প্রকাশিত বিবৃতিতে প্রতিরক্ষা কাউন্সিল জানায়, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। কাউন্সিলের ভাষ্য অনুযায়ী, তেহরান কেবল শত্রুপক্ষের আক্রমণের পর জবাব দেওয়ার মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখবে না, বরং নিরাপত্তার স্বার্থে যদি ‘বাস্তব হুমকির স্পষ্ট লক্ষণ’ দেখা যায়, তাহলে আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় থাকবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা এমন এক ‘লাল রেখা’, যা অতিক্রম করার সুযোগ নেই। যেকোনো আগ্রাসন বা ধারাবাহিক শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের জবাব হবে যথাযথ, দৃঢ় ও কঠোর-এমন সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়। যদিও বিবৃতিতে সরাসরি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে বক্তব্যের লক্ষ্যবস্তু যে ইসরায়েল, তা পর্যবেক্ষকদের কাছে স্পষ্ট।
এই সতর্কতা এসেছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বিমান প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটের প্রস্তুতি যাচাই করতে সামরিক মহড়া চালানোর মাত্র দুই দিন পর। এর আগে গত নভেম্বরে তেহরানে আয়োজিত এক প্রদর্শনীতে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, স্যাটেলাইট বহনকারী রকেট ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রকাশ্যে প্রদর্শন করে, যা ইসরায়েলের প্রতি শক্ত বার্তা হিসেবেই দেখা হয়।
এদিকে দেশটির ভেতরে ইরান তীব্র অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপে রয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং জাতীয় মুদ্রার বড় ধরনের অবমূল্যায়নের কারণে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ চলছে। এই অবস্থায় একদিকে নিরাপত্তা বাহিনী অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে সরকার আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় ইংরেজি দৈনিক তেহরান টাইমস প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের বক্তব্যকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরে জানিয়েছে, প্রয়োজনে আগাম প্রতিরোধমূলক হামলা ইরানের নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হতে পারে। পত্রিকাটির মতে, ইরানের দৃষ্টিতে কেবল হামলার অপেক্ষায় থাকা নয়, বরং হুমকি স্পষ্ট হলে আগে থেকেই ব্যবস্থা নেওয়াই জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপায়।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এমন বক্তব্য ও অবস্থান ইতোমধ্যে অস্থিতিশীল মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও সামরিক প্রস্তুতির এই বার্তা পুরো অঞ্চলজুড়ে অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
/ইউএমএইচ