ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি মোদির বিরুদ্ধে ‘চাপের মুখে আত্মসমর্পণের’ অভিযোগ তুলেছেন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা এসব মন্তব্য করেন। সম্প্রতি এক বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি তার সঙ্গে দেখা করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। এসময় ট্রাম্প বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন, বলেছিলেন-স্যার, আমি কি আপনার সঙ্গে দেখা করতে পারি? আমি বললাম, হ্যাঁ।
ভারতের ওপর বিশাল শুল্ক আরোপের বিষয়টি উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ভারতকে এখন প্রচুর শুল্ক দিতে হচ্ছে এবং ফলে রাশিয়া থেকে তেল কেনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
রাহুল গান্ধী সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ এক ভিডিও বার্তা শেয়ার করেন, এর ক্যাপশন ছিল-‘ফারাক সমঝিয়ে স্যারজি’ (পার্থক্যটা বুঝুন স্যারজি)।
তিনি পোস্টে লিখেছেন, আমি এই বিজেপি-আরএসএসের লোকদের এখন খুব ভালো করে চিনি। এদের ওপর সামান্য চাপ দিন, একটু ধাক্কা দিন, অমনি এরা ভয়ে পালিয়ে যান।
তিনি বলেন, ট্রাম্প যদি ফোন করে বলে, মোদিজি কী করছেন? অমনি নরেন্দ্র মোদি আত্মসমর্পণ করবেন এবং ইয়েস স্যার বলে ট্রাম্পের সংকেত অনুসরণ করবেন।
কংগ্রেসের এই নেতা মোদির নেতৃত্বের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বেরও তুলনা করেছেন। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের (বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, যদিও গান্ধী সেটা উল্লেখ করেননি) সঙ্গে তুলনা করে রাহুল গান্ধী লিখেছেন, একসময় মার্কিন চাপ সত্ত্বেও ভারত মাথা নত করেনি।
পোস্টে রাহুল আরও লিখেছেন, আপনাদের হয়তো সেই সময়ের কথা মনে আছে, যখন কোনো ফোন আসেনি-বরং সপ্তম নৌবহর এসেছিল। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে সপ্তম নৌবহর এল, অস্ত্রশস্ত্র এল, রণতরি এল। ইন্দিরা গান্ধীজি তখন বলেছিলেন, আমাকে যা করতে হবে আমি তা–ই করব। এটাই হলো আসল পার্থক্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্প ভারতীয় রপ্তানি পণ্যের ওপর মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন, যার মধ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক সরাসরি রাশিয়ার তেল কেনার শাস্তি হিসেবে আরোপ করা হয়েছে। ট্রাম্প বলেছ, মোদির সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক। তিনি আমার ওপর খুব একটা খুশি নন। কারণ, তারা এখন প্রচুর শুল্ক দিচ্ছে। তারা এখন আগের মতো তেল কিনছে না-আসলে তারা তেল কেনার পরিমাণ অনেক কমিয়ে দিয়েছে।
আগস্ট মাসে আরোপিত এই শুল্কের কারণে দুই দেশের মধ্যে কয়েক দফা বাণিজ্য আলোচনা এবং দুই নেতার মধ্যে অন্তত চারবার কথাবার্তা হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো চূড়ান্ত বাণিজ্যচুক্তি হয়নি। আলাদাভাবে ট্রাম্প তার বক্তব্যে আরও বলেন, ভারত অ্যাপাচি হেলিকপ্টার সরবরাহে বিলম্বের বিষয়টি তুলেছে। তিনি বলেছেন, ভারত পাঁচ বছর ধরে এই হেলিকপ্টারগুলোর জন্য অপেক্ষা করছে।
/ইউএমএইচ