মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউজের ক্ষমতা নেওয়ার পর বিশ্বজুড়ে প্রভাব ফেলার মতো যে কয়টি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তারমধ্যে শুল্কযুদ্ধ অন্যতম। প্রথমে বড় আকারে শুল্ক চাপালেও মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির মাধ্যমে ইতোমধ্যে তা কমিয়েও এনেছেন। কিন্তু, সুসম্পর্ক থাকার পরেও ভারতের সঙ্গে প্রত্যাশিত চুক্তি হয়নি। ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক বজায় রেখেছে ওয়াশিংটন।
এর কারণ হিসেবে কেবল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একগুঁয়েমিকেই দায়ী করেছেন মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক।
সম্প্রতি এক পডকাস্টে তিনি দাবি করেন, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত করার অন্যতম শর্ত ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করবেন মোদি। কিন্তু সেই ফোন আসেনি। বাণিজ্য চুক্তি হয়নি। ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছে আমেরিকা।
পডকাস্টে বর্তমান ভারত-মার্কিন বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে লুটনিক বলেন, দুই দেশের বাণিজ্য চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু চুক্তিতে সিলমোহর হিসাবে প্রয়োজন ছিল একটিমাত্র বিষয়। আর তা হলো ট্রাম্পকে ফোন করতে হবে মোদির। ট্রাম্পের কাছে প্রধানমন্ত্রীর ফোন গেলে তারপরেই চুক্তি চূড়ান্ত হবে-এমন শর্ত রাখা হয়েছিল। তবে ভারতীয় কর্মকর্তারা এই শর্ত মানতে চাননি। শেষ পর্যন্ত মোদির ফোন পাননি ট্রাম্প। ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি সই হয়নি।
তিনি আরও জানান, আগামী দিনে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলির উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর বিলে অনুমোদন দিয়েছেন ট্রাম্প। যার ফলে আবারও ভারতের উপর শুল্ক বসার সম্ভাবনা প্রবল।
মার্কিন বাণিজ্য সচিব আরও জানিয়েছেন, বাণিজ্যচুক্তি করার ক্ষেত্রে ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনামের মতো দেশগুলি ভারতের চেয়ে অনেকখানি পিছিয়ে ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের সঙ্গে চুক্তি হয়ে গিয়েছে। আপাতত ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করতে আমেরিকা আর আগ্রহী নয়।
/এমএইচআর