কুয়াশায় ঢাকা বীজতলা, সূর্যের অপেক্ষা কৃষকের

কায়সার রহমান রোমেল, গাইবান্ধা

সারাদেশ

বীজতলায় সামনে বসে আছেন গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের গোবিন্দপুরের ৬৮ বছর বয়সী কৃষক রিয়াজউদ্দিন। সামনে সারি সারি বোরো ধানের

2026-01-09T20:29:15+00:00
2026-01-09T20:29:15+00:00
 
  সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬,
৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
কুয়াশায় ঢাকা বীজতলা, সূর্যের অপেক্ষা কৃষকের
কায়সার রহমান রোমেল, গাইবান্ধা
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৯ পিএম 
কুয়াশায় ঢাকা বীজতলা, সূর্যের অপেক্ষা কৃষকের। ছবি : সময়ের আলো
বীজতলায় সামনে বসে আছেন গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের গোবিন্দপুরের ৬৮ বছর বয়সী কৃষক রিয়াজউদ্দিন। সামনে সারি সারি বোরো ধানের চারা। দূর থেকে সবুজ দেখা গেলেও কাছে গেলে রং বদলায় চারাগুলো। কোথাও হলুদ, কোথাও সাদা, আবার কোথাও ডগা লালচে হয়ে আছে চারাগুলোর। রিয়াজউদ্দিন কয়েকটি চারা হাতে নেন। কিছুক্ষণ চুপচাপ ক্ষতিগ্রস্ত চারাগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকেন। যেন চারার ভেতর নিজের ভবিষ্যৎ খুঁজছেন তিনি। রিয়াজউদ্দিনের মতো দুশ্চিন্তায় আছেন গাইবান্ধার ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো কৃষক। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ বোরো মৌসুমে জেলায় এক লাখ ২৯ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ছয় হাজার ৮১২ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতির নিষ্ঠুর আচরণে সেই প্রস্তুতি এখন প্রশ্নের মুখে। ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডায় বেশিরভাগ কৃষকের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে আসন্ন বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, পরিস্থিতি নজরে রাখা হচ্ছে। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আতিকুল ইসলাম বলেন, টানা শীত ও কুয়াশার কারণে বীজতলায় ‘কোল্ড ইনজুরি’ দেখা দিয়েছে। রাতে স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখা, ৩ থেকে ৫ সেন্টিমিটার পানি ধরে রাখা এবং সকালে জমে থাকা শিশির ঝরিয়ে দেওয়া পরামর্শ দিয়েছি। এভাবে কুয়াশা থাকলেও চারা তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। 

জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে এলে ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

কৃষক রিয়াজউদ্দিন জানান, তিন বিঘা জমিতে বোরো ধান করবেন ভেবে এই বীজতলা তৈরি করেছি। বছরের পর বছর এই সময়ে কচি চারায় সবুজ হয়ে যায় মাঠ। কিন্তু এবার চিত্র ভিন্ন। পৌষ মাসের শেষ দিকে এসেও সূর্যের দেখা নেই। দিনের পর দিন ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডায় থমকে গেছে চারার বেড়ে ওঠা। কুয়াশার কারণে চারার গোড়ায় পচন ধরেছে। এত শীত আগে দেখিনি। জানলে হয়তো একটু প্রস্তুতি নিতে পারতাম।


তিনি আরও বলেন, চারা বাঁচলে ফসল হবে, ফসল হলে সংসার চলবে। সূর্য উঠলেই চারার রং ফিরবে, আর চারার রং ফিরলেই স্বস্তি ফিরবে কৃষকদের চোখে।

কৃষক মোন্নাফ গাজী নামে আরেকজন কৃষক বলেন, কুয়াশায় চারা বাঁচানো যাচ্ছে না। ওষুধেও কাজ হচ্ছে না। মাঠে এসে কেউ যদি দিকনির্দেশনা দিত, তাহলে সাহস পেতাম। এভাবে চলতে থাকলে এ বছর ধান রোপণ করতে পারবো বলে মনে হয় না।

সময়ের আলো/জেডআই



  বিষয়:   গাইবান্ধা  কুয়াশা  বীজতলা  সূর্য  কৃষক 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: