রাজশাহীর বাগমারায় চিকিৎসক পরিচয়ে জালিয়াতির দায়ে নুরুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তিনি নিজেকে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন।
রোববার (১১ জানুয়ারি) উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার গোডাউন মোড়ে অবস্থিত আত-তাবারা হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম রাজশাহীর বহরমপুর এলাকার বাসিন্দা।
জানা গেছে, নুরুল ইসলাম বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)-এর নিবন্ধন নম্বর A-34797 ব্যবহার করে আত-তাবারা মডেল হাসপাতালে চেম্বার করতেন। তার প্রকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি পাস। হাসপাতালের ভেতরে ও চেম্বারের সাইনবোর্ডে লেখা আছে ‘ডা. মো. রফিকুল হাসান, এমবিবিএস, এমসিপিএস (মেডিসিন), এফসিপিএস (নিউরো মেডিসিন)’। সাইনবোর্ডে আরও লেখা ছিল, ‘তিনি ব্রেইন, নার্ভ, স্ট্রোক, প্যারালাইসিস, স্পাইন ও মৃগী রোগের চিকিৎসা প্রদান করেন।’ তবে তদন্তে এসব তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও প্রতারণামূলক বলে প্রমাণিত হয়।
অভিযানের সময় বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. সাফিউল্লাহ নেওয়াজ অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম ভূঁঞার কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।
প্রাথমিক তদন্তে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০-এর ২৮(৩) ধারায় অভিযুক্ত নুরুল ইসলামকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া ভুয়া চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ায় আত-তাবারা মডেল হাসপাতালের মালিক মশিউর রহমানকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা বলেন, হাসপাতালটির বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালটিতে চিকিৎসক সংকট, ভুয়া চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা, ভুল চিকিৎসা ও অব্যবস্থাপনার কারণে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা দীর্ঘদিন চোখে পড়েনি।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, জনগণের জীবন নিয়ে এমন কাজ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। ভুয়া ডাক্তার, অনুমোদনহীন ক্লিনিকসহ জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সব কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।
অভিযানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক এ এস এম সায়েমসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আআ/আরআর