শুরু হতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। বাকি আর মাত্র এক মাস। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) চিঠি লিখে আইসিসিকে জানিয়েছে বৈশ্বিক এই আসর তারা ভারতে গিয়ে খেলতে রাজি নয়। এরই মধ্যে আইসিসিও প্রথম দফায় বাংলাদেশকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে।
এদিকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) জানিয়েছে, বাংলাদেশ দলের ম্যাচগুলো তারা আয়োজন করতে আগ্রহী। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও টিভির এক খবরে এ তথ্য জানা গেছে।
মূলত কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসার পর থেকেই ঘটনার সূত্রপাত হয়। তবে কেকেআর, আইপিএল বা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেনি। বাংলাদেশও এর পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি। এরই মধ্যে বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
একইসঙ্গে আইসিসিকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে না বাংলাদেশ। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গতকাল গুজরাটের বরোদরায় বিসিসিআই কর্তাদের সঙ্গে একটি বৈঠক হয়েছে আইসিসি’র চেয়ারম্যান জয় শাহর।
পিসিবি জানিয়েছে, আইসিসি চাইলে বাংলাদেশ দলের ম্যাচগুলো তারা সহজেই আয়োজন করতে পারবে। পাকিস্তানের সব ভেন্যুই প্রস্তুত আছে। পিসিবি এ ব্যাপারে আইসিসিকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রস্তাব না দিলেও বিসিবির ভারতে বিশ্বকাপের ম্যাচ না খেলার অবস্থানকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড সমর্থন জানাচ্ছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। বর্তমান সূচি অনুযায়ী, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম তিনটি গ্রুপ ম্যাচ হওয়ার কথা কলকাতায়, আর শেষ ম্যাচটি মুম্বইয়ে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে পাকিস্তানের এক সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, পিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) কে জানিয়েছে, যদি বিকল্প ভেন্যু হিসেবে শ্রীলঙ্কা অনুপযোগী থাকে, তবে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ম্যাচগুলো আয়োজনে পাকিস্তান পুরোপুরি প্রস্তুত।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পিসিবি মনে করে, স্বল্প সময়ের নোটিশেও বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের মতো প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা তাদের রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি আয়োজনের অভিজ্ঞতায় পাকিস্তান নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে চায়।
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক ভারত ও শ্রীলঙ্কা। তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবং মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কে টানাপড়েন চলছে।
সময়ের আলো/কেএইচও