হিমালয় থেকে ধেয়ে আসা হাড়কাঁপানো হিমেল বাতাস আর কনকনে শীতে কাঁপছে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়। গত ৮দিন ধরে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে অবস্থান করছে। টানা শৈত্যপ্রবাহে থমকে আছে স্বাভাবিক জনজীবন। রোদ উঠলেও বাতাস কমছে না। বাতাসে শীতের তীব্রতা বেশ অনুভূত হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি। এর আগে ভোর ৬টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল সোমবার তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি। আর গত শুক্রবার এই মৌসুমের সর্বনিম্ন ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। অর্থাৎ টানা এক সপ্তাহ ধরে ৮ ডিগ্রির আশেপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে তাপমাত্রার পারদ।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভোরেই হালকা কুয়াশা ভেদ করে দেখা মিলেছে সূর্যের। সূর্য রোদ ছড়ালেও সকালে হাড়কাঁপানো শীতে কাঁপছে মানুষ। কনকনে ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচতে অনেক স্থানে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে অসহায় মানুষদের। তবে পেটের তাগিদে তীব্র শীত উপেক্ষা করেই কাজে বের হতে হচ্ছে চা শ্রমিক, পাথর শ্রমিক, দিনমজুরসহ বিভিন্ন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষগুলো। টানা শৈত্যপ্রবাহ ও কয়েকদিন সূর্যের মুখ দেখা না যাওয়ায় বিপর্যস্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সীমান্তবর্তী জনসাধারণের।
সকালে কথা হয় দিন মজুর হোসেন আলীর সাথে। তিনি জানান, খুবই ঠান্ডা। ঠান্ডায় হাত-পা সব অবশ হয়ে আসে। মনে হয় তাপমাত্রা জিরোর নিচে। কিন্তু কাজ না করলে খামু কী? বাধ্য হয়েই কাজে বেড়িয়েছি।
শীতে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রতিদিন সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া নিয়ে ভর্তি হচ্ছে শত শত রোগী। যার বড় অংশই শিশু ও বৃদ্ধ। চিকিৎসকরা এই সময়ে সবাইকে গরম কাপড় ব্যবহারের পাশাপাশি বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।
জেলার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ জানান, শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। সপ্তাহের বেশি সময় ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বয়ে আসা হিমেল বাতাসের কারণে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
আরআর