ইন্দোনেশিয়ার অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট মারাপি বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ভোরে হঠাৎ অগ্ন্যুৎপাত ঘটিয়েছে। এতে আগ্নেয়গিরির চূড়া থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার উঁচুতে ছাই ও ধোঁয়ার ঘন মেঘ ছড়িয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে দেশটির আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ কর্তৃপক্ষ।
পশ্চিম সুমাত্রা প্রদেশে অবস্থিত মারাপির এই অগ্ন্যুৎপাত সিসমোগ্রাফে (যা ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত বা অন্য কোনো কারণে সৃষ্ট পৃথিবীর কম্পন রেকর্ড করে) ধরা পড়ে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আন্তারার বরাতে জানানো হয়, কম্পনের মাত্রা ছিল ২৮ দশমিক ৬ মিলিমিটার এবং কম্পন স্থায়ী হয় প্রায় ৩১ সেকেন্ড।
পাদাংয়ে অবস্থিত আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা আহমাদ রিফান্দি জানান, প্রতিবেদন তৈরির সময়ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত চলছিল।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে মাউন্ট মারাপিকে সতর্কতা স্তর–২ ঘোষণা করা হয়েছে। আগ্নেয়গিরির কেন্দ্রস্থল থেকে তিন কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ঠান্ডা লাভা বা লাহার (লাহার হলো এক ধরনের ধ্বংসাত্মক কাদা বা ধূলো প্রবাহ) নদীপথে নেমে আসার আশঙ্কা থাকায়, মারাপির চূড়া থেকে উৎসারিত নদীগুলোর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের বাড়তি সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
প্রায় ২ হাজার ৮৯১ মিটার উচ্চতার মাউন্ট মারাপি সুমাত্রা দ্বীপে অবস্থিত। এটি ইন্দোনেশিয়ার প্রায় ১৩০টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরির একটি। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এখানে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।
সময়ের আলো/এমএইচজে/