ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তেহরান সরকারের কাছে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কোনো পরিকল্পনা নেই। ফক্স নিউজকে তিনি বলেছেন, ফাঁসির কোনো পরিকল্পনা নেই, প্রশ্নই ওঠে না। এই ঘোষণার সঙ্গে মিল রেখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জানিয়েছেন, তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা হয়েছে এবং পরিকল্পিত মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা হয়েছে।
মার্কিন-ইরান উত্তেজনা
কাতারে মার্কিন ও আন্তর্জাতিক বাহিনীর উপস্থিতির কারণে কিছু কর্মী প্রত্যাহার করা হয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন এবং সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো বলেননি। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছ থেকে খুব ভালো বিবৃতি পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্প হয়তো বড় কোনো সামরিক সংঘাতে যেতে চান না। সীমিত পদক্ষেপের সম্ভাবনা থাকলেও বিশ্লেষকরা মনে করেন, তিনি দ্রুত বিজয় দেখতে চাইছেন, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য আগ্রহী নন। সীমিত হামলার মাধ্যমে ট্রাম্প ইরানের বিক্ষোভকারীদেরকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেখাতে পারেন।
ইরানের প্রতিক্রিয়া
ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে তারা পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর বলেছেন, আমরা শত্রুর ভুল হিসাবের চূড়ান্ত জবাব দিতে প্রস্তুত। তিনি ট্রাম্প ও ইসরায়েলকে বিক্ষোভে ইরানের তরুণদের হত্যাকারী হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন।
আরাগচি জানিয়েছেন, ৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভের পর সরকার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি বলেন, তিন দিনের সন্ত্রাসী অভিযানের পর এখন শান্তি বিরাজ করছে।
বিক্ষোভ ও মানবাধিকার পরিস্থিতি
ডিসেম্বরে স্থানীয় মুদ্রার মান হ্রাস ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা দ্রুত সরকারবিরোধী আন্দোলনে পরিণত হয়। দুই সপ্তাহে ২ হাজার ৪০০ এর বেশি বিক্ষোভকারী এবং ১৫০ এর বেশি নিরাপত্তা কর্মী ও সরকার সমর্থক নিহত হয়েছেন। ইরান প্রায় সম্পূর্ণ টেলিযোগাযোগ ব্ল্যাকআউটের মধ্যে রয়েছে এবং শাটডাউন ১৪৪ ঘণ্টা অতিক্রম করেছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন মাত্রায় প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার করেছে। আহতদের মধ্যে মাথা ও চোখে গুলিবিদ্ধের প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করে গুলি চালিয়েছে।
তৌহিদ আসাদি, তেহরান থেকে রিপোর্ট করেছেন যে, মানুষ জুনের ১২ দিনের মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাতের ছায়ায় এখনো মানসিকভাবে উদ্বিগ্ন। নতুন সংঘাতের আশঙ্কা তাদের দৈনন্দিন জীবনকেও প্রভাবিত করছে।
ইরানে বিক্ষোভ ও দমন-পীড়নের মধ্যে সরকার বলছে তারা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে, কিন্তু আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মানবাধিকার লঙ্ঘন ও উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। মার্কিন প্রশাসন সীমিত সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনা করছে, কিন্তু বিশ্লেষকরা মনে করছেন বড় ধরনের সংঘাতের সম্ভাবনা কম। মৃত্যুদণ্ড স্থগিত হওয়া এবং সীমিত কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ কিছুটা পরিস্থিতি শিথিল করেছে, তবে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনায় এখনো ভাঁটা পড়েনি, যেকোনো সময় দাউ দাউ করে জ্বলতে পারে আগুন।
/ইউএমএইচ