চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে সড়ক সংস্কার প্রকল্পে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। কাজ শেষ না হতেই সড়কের বিভিন্ন জায়গায় উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং। পুরুত্ব কম থাকায় হাতে টানলেই কার্পেটিং উঠে আসছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার গৃদকালিন্দয়া-ইসলামগঞ্জ সড়কে সম্প্রতি শুরু হওয়া সংস্কার কাজের অনিয়ম নিয়ে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, বছরের পর বছর সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। অবশেষে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ায় তারা আশাবাদী হয়েছিলেন। কিন্তু কাজ শুরুর কয়েক দিনের মধ্যেই কার্পেটিং উঠে যাওয়ায় আশা এখন চরম হতাশায় পরিণত হয়েছে।
জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় প্রায় এক কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয়ে দুই হাজার সাতশ মিটার সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়। প্রকল্প অনুযায়ী গত বছরের ডিসেম্বর মাসেই কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে চলতি বছরে এসে কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নির্ধারিত সময়ের পরে কাজ শুরু করেও মানসম্মত কাজ না হওয়ায় এলাকাবাসীর ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সোহিল আহমেদ জানান, সড়ক নির্মাণে প্রয়োজনীয় মান বজায় রাখা হয়নি। বিটুমিন, খোয়া ও অন্যান্য উপকরণ নিম্নমানের হওয়ায় ঢালাইয়ের কিছুদিনের মধ্যেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। এতে বর্ষা মৌসুমে সড়কটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান উপজেলা প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা। পরিদর্শন শেষে ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবরার আহাম্মদ জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কাজের মান নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি মো. মঞ্জিল হোসেন দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে রাস্তার কার্পেটিং তুলে ফেলছে। কাজের মান নিয়ে কোনো গাফিলতি নেই এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে।
এলাকাবাসী দাবি, রাস্তার বিভিন্ন অংশে একইভাবে কার্পেটিং উঠে যাওয়া কাজের নিম্নমানের প্রমাণ। তাদের দাবি, দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে মানসম্মতভাবে সড়ক সংস্কার নিশ্চিত করা হোক।
সময়ের আলো/আআ