আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ ও ২ আসনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)-র সহ-সভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জোটের বৈঠক শেষে তিনি তার ভেরিফাইড ফেসবুকে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে বিষয়টি জানান।
রাশেদ প্রধান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ঐক্যের বৃহত্তর স্বার্থে আমি এবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব না। তবে গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে এবং ঐক্যের প্রার্থীদের হয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করব ইনশাআল্লাহ।
বড় এই রাজনৈতিক ত্যাগের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি যাই হোক, আমরা সকলেই রাজপথের সাথী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন। অতএব বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন এবং অন্যান্য দলের নেতৃবৃন্দ ও সমর্থকদের বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করছি, আপনারা দয়া করে একে অপরের প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ ও শব্দ ব্যবহার থেকে বিরত থাকবেন।
ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষোর চেয়ে রাজনৈতিক সমঝোতাকে প্রাধান্য দিয়ে তিনি তার সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, আমাকে যারা ভালোবাসেন, তারা দয়া করে মন খারাপ করবেন না। ব্যক্তি রাশেদ প্রধানের চেয়ে আমাদের সমঝোতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
রাশেদ প্রধানের এই সরে দাঁড়ানোর ফলে পঞ্চগড়ের দুটি আসনের পঞ্চগড়-১ আসনের জোটে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও পঞ্চগড়-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী সফিউল্লাহ সুফির লড়াই এখন আরও সহজতর হলো। তারা বিএনপির শক্তিধর প্রতিদ্বন্দ্বিতার সঙ্গে ভোট লড়াই হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টিসহ সভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান নির্বাচন কমিশন থেকে আপিলের মাধ্যমে দুটি আসনেই প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে জোটের সংহতি বজায় রাখতে তিনি নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিলেন। এর ফলে পঞ্চগড়-২ আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীর শক্তিশালী অবস্থান তৈরি হলো। অপরদিকে প্রাথীতা প্রত্যাহার করায় নেটিজেনদের প্রশংসা পাচ্ছেন রাশেদ প্রধান।
সময়ের আলো/এআর