সরবরাহ ভালো থাকায় ডিমের চাহিদা কমেছে। ফলে খুচরা বাজারে ডজনপ্রতি কমে এসেছে ডিমের দাম। তবে স্বস্তি নেই মাছ ও মুরগির দামে। মাছের দাম দাম চড়া রয়েছে এবং মুরগির বাজার স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে ফার্মের ডিম ডজনপ্রতি ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক আগেও একই ডিমের দাম ছিল ১২০ টাকা। সাদা ডিমের দাম ১২০ থেকে ১২৫ টাকা এবং দেশি হাঁসের ডিম ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় মিলছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীতকালে শাকসবজি ও দেশি মাছের সরবরাহ বাড়ায় ডিমের ওপর চাপ কমে যায়। ফলে দামও কিছুটা নামছে। পাইকারি বাজারে প্রতিটি ডিমের দাম বর্তমানে ৮ টাকার নিচে নেমে এসেছে।
ডিম বিক্রেতা হৃদয় মিয়া জানান, ডিমের দাম কমলেও বিক্রি খুব একটা বাড়েনি। বাজারে এখন মাছ ও সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় অনেকেই ডিম কম কিনছেন। সে কারণে চাহিদা অনুযায়ী বিক্রি হচ্ছে না।
মাংসের বাজারে গরু ও খাসির মাংসের দামে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। গরুর মাংস আগের মতোই ৭৫০ থেকে ৯৫০ টাকা, খাসির মাংস এক হাজার ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
দাম অপরিবর্তিত থাকলেও, ক্রেতারা বলছেন, অপরিবর্তিত মানে স্থিতিশীল নয়। এখনকার এই দামই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
অন্যদিকে মুরগির বাজারে দামে কোনো বড় পরিবর্তন নেই। আজকের বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির দাম ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি।
বিক্রেতারা বলছেন, মুরগির সরবরাহ ও চাহিদা-দুটোই প্রায় সমান থাকায় দাম আগের জায়গাতেই স্থির রয়েছে।
মুরগি বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, শীতের কারণে খামারিরা মুরগি দীর্ঘদিন ধরে রাখতে চান না। নিয়মিত বাজারে মুরগি আসছে। আবার বড় ধরনের চাহিদাও নেই। তাই দামে তেমন কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।
ক্রেতারা জানান, মুরগির দাম আরও কমার সুযোগ আছে। বছরের শুরুতে ব্রয়লার মুরগি ১৫০–১৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তখন তো ব্যবসায়ীরা লোকসানে ছিলেন না। এখন দাম কমছে না কেন, সেটা বোঝা যায় না। দোকানে তো মুরগির ঘাটতি চোখে পড়ে না।
এদিকে মাছের দাম আগে সপ্তাহের মতোই চড়া অবস্থায় রয়েছে। সরবরাহ থাকলেও দামে তেমন কোনো স্বস্তি নেই। বাজারে কোরাল মাছ ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা, আইড় ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, সরপুঁটি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং শিং ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। রুই ও কাতলা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে।
চাষের মাছের মধ্যে পাঙাশ ও সিলভার কার্প ২০০ থেকে ২৮০ টাকা, বড় সাইজের তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সামুদ্রিক মাছের মধ্যে বড় আকারের চিংড়ি ৭৫০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা এবং ছোট চিংড়ি এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে বাজারে ইলিশের দামও চড়া রয়েছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ দুই হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা এবং দুই কেজির বেশি ওজনের ইলিশ দুই হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছ কিনতে আসা একজন ক্রেতা জানান, মাছের দরদাম করার সুযোগ প্রায় নেই। যে দাম বলা হয়, সেই দামেই কিনতে হয়। ডিমের দাম কমেছে, সেটা ভালো। কিন্তু মাছের দামে কোনো স্বস্তি না থাকায় বাজেট মেলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
সময়ের আলো/আআ