দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামী ২২ জানুয়ারি আধ্যাত্মিক নগরী সিলেট থেকে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করতে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে সিলেটজুড়ে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভাকে ঘিরে বেড়েছে বিএনপির রাজনৈতিক তৎপরতা।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সফরের শুরুতে তারেক রহমান হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর তিনি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের বিশাল জনসভায় যোগ দেবেন। এই মাঠটি বিএনপির জন্য ঐতিহাসিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
১৯৭৮ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯১ সালের পর থেকে বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্ন সময়ে এই মাঠ থেকেই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন। এবার সেই একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। সমাবেশ সফল করতে কাজ করছেন স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, জনসভায় প্রায় তিন লাখ মানুষের সমাগমের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সকাল থেকে সমাবেশ শুরু হবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নেতাকর্মীরা আগের রাতেই মাঠে অবস্থান নেবেন।
সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী জানান, শহিদ জিয়া ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ধারাবাহিকতায় এবার তারেক রহমান এই মাঠে দাঁড়াচ্ছেন। এটি আমাদের জন্য শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং এক আবেগের মুহূর্ত।
বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক এবং কেন্দ্রীয় সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই সমাবেশ থেকে তারেক রহমান জাতীয় রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন। শান্তি ও গণতন্ত্রের বার্তার পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে সিলেট থেকেই। নেতারা মনে করছেন, এই সফর তৃণমূল পর্যায়ে আস্থার বার্তা পৌঁছে দেবে এবং সিলেটের রাজনীতিতে এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে।
তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে নগরীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হচ্ছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, জনসভা ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি থাকবে।
সময়ের আলো/আআ