দুর্বল ইরানও ট্রাম্পের জন্য কেন বিপজ্জনক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইরান প্রশ্নে তিনি ‘জিততে’ চান। তবে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার বিশ্লেষকদের মতে, বিক্ষোভে বিপর্যস্ত,

2026-01-17T21:34:53+00:00
2026-01-17T21:34:53+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
দুর্বল ইরানও ট্রাম্পের জন্য কেন বিপজ্জনক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৪ পিএম   (ভিজিট : ১৭৩)
তেহরানের বিরুদ্ধে কোনো দ্রুত বা সহজ বিজয়ের পথ যুক্তরাষ্ট্রের সামনে নেই। ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইরান প্রশ্নে তিনি ‘জিততে’ চান। তবে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার বিশ্লেষকদের মতে, বিক্ষোভে বিপর্যস্ত, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল আর আন্তর্জাতিকভাবে চাপে থাকা ইরানও ট্রাম্পের জন্য বিপজ্জনক। তেহরানের বিরুদ্ধে কোনো দ্রুত বা সহজ বিজয়ের পথ যুক্তরাষ্ট্রের সামনে নেই। বরং সামরিক হস্তক্ষেপ ইরানকে আরও সহিংস ও প্রতিশোধপরায়ণ করে তুলতে পারে, যার পরিণতিতে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

‘সহজ জয়’ নেই : ওয়াশিংটনে বসে ইরানকে যতটা দুর্বল মনে হয়, বাস্তবে দেশটি ততটা ভঙ্গুর নয়। চার দশকের বেশি সময় ধরে যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা, আন্তর্জাতিক একঘরে অবস্থা ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা সত্ত্বেও ইরানের রাষ্ট্রব্যবস্থা টিকে আছে। এই ব্যবস্থাটি আদর্শিকভাবে নির্মিত; যেখানে ক্ষমতার কেন্দ্র শুধু সরকার নয়, বরং ধর্মীয়, সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর জটিল সমন্বয়।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো বড় সামরিক আঘাত ইরানের রাষ্ট্রীয় অস্তিত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখা হবে। ফলে প্রতিক্রিয়াও হবে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ের মতো। স্টিমসন সেন্টারের বিশ্লেষক বারবারা স্লাভিন আলজাজিরাকে বলেন, ‘এখানে কোনো ভালো বিকল্প নেই। যেকোনো সিদ্ধান্তের পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।’

বিক্ষোভ, দমন ও ট্রাম্পের প্রকাশ্য হুমকি : ২০২৬ সালের শুরু থেকে ইরানে ছড়িয়ে পড়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ পরিস্থিতিকে নাটকীয়ভাবে বদলে দেয়। জীবনযাত্রার ব্যয়, মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অসন্তোষ এক হয়ে বিস্ফোরণ ঘটায়। নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমননীতিতে হাজারো মানুষ নিহত ও গ্রেফতার হয় বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রকাশ্যে হস্তক্ষেপের হুমকি দেন। তিনি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত আছে এবং প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ নেবে। বিক্ষোভকারীদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখলের আহ্বানও জানান তিনি। তবে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ও নিরাপত্তা অভিযানের মাধ্যমে ইরানি সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে ট্রাম্পের ভাষ্যেও পরিবর্তন আসে। বিশ্লেষকদের মতে, এখানেই যুক্তরাষ্ট্রের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ইরানের প্রতিক্রিয়া এবার কি সীমা ছাড়াবে : ২০২০ সালে কাসেম সোলাইমানি হত্যা বা ২০২৫ সালে পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর ইরানের প্রতিক্রিয়া ছিল তুলনামূলক সীমিত। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। কারণ বিক্ষোভ ইরানি শাসকগোষ্ঠীর কাছে অস্তিত্বগত হুমকি হিসেবে ধরা দিয়েছে।

কুইন্সি ইনস্টিটিউটের ত্রিতা পারসি বলেন, ‘ইরান এবার আর সহনশীলতার কৌশল নেবে না। তারা জানে, নরম হলে ভেতর থেকেই ভেঙে পড়বে।’ এমন পরিস্থিতিতে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি, আঞ্চলিক মিত্র বা জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে; যার প্রভাব হবে বৈশ্বিক।

ভেনেজুয়েলা ইরান নয় : ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকটি সিদ্ধান্তে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ইরানকে ভেনেজুয়েলার মতো পরিস্থিতিতে ফেলা সম্ভব বলে তারা ভাবছে। কিন্তু বিশ্লেষকরা এই তুলনাকে বিপজ্জনক বলে মনে করেন। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের নাইসান রাফাতি বলেন, ‘ইরানের রাষ্ট্রব্যবস্থা অনেক গভীরে প্রোথিত। এখানে অভ্যন্তরীণ ভাঙন ছাড়া কেবল বাইরের সামরিক শক্তি দিয়ে পরিবর্তন আনা প্রায় অসম্ভব।’ ট্রাম্প দ্রুত ও দৃশ্যমান সাফল্যে বিশ্বাসী হলেও ইরান সংকটে এমন কোনো শর্টকাট নেই।


দুর্বল ইরান, তবু বিপজ্জনক : ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব কমেছে, মিত্ররা দুর্বল হয়েছে, অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। রিয়ালের মূল্য ৯০ শতাংশের বেশি কমে গেছে। তবু এ দুর্বলতাই শাসকগোষ্ঠীকে আরও আক্রমণাত্মক করে তুলছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইতিহাস দেখায়- অস্তিত্ব সংকটে পড়া রাষ্ট্রগুলোই সবচেয়ে বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত নেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের দোটানা : ইরানে হামলার পক্ষে ওয়াশিংটনের ভেতরে চাপ থাকলেও উপসাগরীয় মিত্ররা সতর্ক। তারা জানে, যুদ্ধ হলে প্রথম ধাক্কা লাগবে তাদের ওপর। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও রাজনৈতিক হিসাব গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন যুদ্ধ ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ সমর্থকদের বড় অংশকে দূরে ঠেলে দিতে পারে।

কূটনীতির বাস্তবসম্মত পথ, নাকি অবাস্তব শর্ত : ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, কূটনীতি এখনও সম্ভব। কিন্তু ইরানের কাছে যেসব শর্ত দেওয়া হচ্ছে; পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ছাড়, ক্ষেপণাস্ত্র সীমিতকরণ, আঞ্চলিক প্রভাব ত্যাগ- তা কার্যত আত্মসমর্পণের শামিল। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থানে থেকে সমঝোতা কঠিন।

ইরান সংকটে ট্রাম্পের সামনে সহজ কোনো পথ নেই। যুদ্ধ তাৎক্ষণিক শক্তি প্রদর্শন হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। আবার কূটনীতি রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সেটিই হয়তো সবচেয়ে কম ক্ষতিকর বিকল্প। ইরান প্রশ্নে বাস্তবতা একটাই; এখানে ভুল সিদ্ধান্তের মূল্য দিতে হবে অনেক দিন।

সময়ের আলো/এসকে/ 





  বিষয়:   ইরান  ট্রাম্প  বিপজ্জনক 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: