মুম্বাইয়ের রাজনীতিতে যুগান্তকারী পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন মহাযুতি জোট ব্রিহানমুম্বাই মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন (বিএমসি) নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এই ফলকে শুধু রাজনৈতিক জয় নয়, ব্যক্তিগত ন্যায়ের স্বীকৃতি হিসেবেও দেখছেন অভিনেত্রী থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা বিজেপি সংসদ সদস্য কঙ্গনা রানাউত। ২২৭টি ওয়ার্ডের এই পুরসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে থ্যাকারে পরিবারের প্রভাবাধীন শাসনের অবসান ঘটল।
এই জয়কে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিজেপি সংসদ সদস্য ও অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত। কারণ ২০২০ সালে অবিভক্ত শিবসেনার নিয়ন্ত্রণাধীন বিএমসি তার মুম্বাইয়ের অফিস ভেঙে দিয়েছিল। পরে বম্বে হাইকোর্ট সেই পদক্ষেপকে ‘আইনের অপপ্রয়োগ’ এবং ‘স্পষ্ট বিদ্বেষপ্রসূত’ বলে আখ্যা দেন।
বিএমসি নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসকে অভিনন্দন জানান কঙ্গনা। তিনি বলেন, ‘মহারাষ্ট্রের বিএমসি নির্বাচনে বিজেপির ভূমিধস জয় দেখে আমি অভিভূত। এটি গেরুয়া রঙের সর্বাত্মক বিজয়।’
কঙ্গনা আরও বলেন, যারা তাকে অপমান করেছে, তার বাড়ি ভেঙেছে, মহারাষ্ট্র ছাড়ার হুমকি দিয়েছে, আজ মহারাষ্ট্রই তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। তার ভাষায়, ‘যারা আমাকে গালাগাল দিয়েছিল, যারা নারীবিদ্বেষী, দাদাগিরি আর স্বজনপোষণের রাজনীতি করত, জনতা আজ তাদের প্রকৃত জায়গা দেখিয়ে দিয়েছে।’
মহাযুতি জোট শুধু বিএমসিতেই নয়, রাজ্যের ২৯টি পুরসভার মধ্যে ২৫টিতেই জয় পেয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস এই জয়কে প্রধানমন্ত্রী মোদির উন্নয়নকেন্দ্রিক রাজনীতির প্রতি জনগণের আস্থার প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রতিটি শহরে পরিবর্তন আনা হবে।
নির্বাচনি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, উত্তর ও পশ্চিম মুম্বাইয়ে বিজেপির ফল সবচেয়ে ভালো, যদিও মধ্য মুম্বাইয়ের কিছু এলাকা এখনও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রয়ে গেছে। সব মিলিয়ে, বিএমসি নির্বাচনের এই ফল শুধু একটি পুরসভা দখলের ঘটনা নয়, বরং মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলের পাশাপাশি অতীতের রাজনৈতিক সংঘাত ও প্রতিশোধমূলক রাজনীতির বিরুদ্ধে জনগণের রায় হিসেবেও দেখছেন অনেকেই। কঙ্গনা রানাউতের প্রতিক্রিয়া সেই প্রতীকী অর্থকেই আরও জোরালো করে তুলেছে।
সময়ের আলো/এসকে/