ইরানের তেলবাহী জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার খবরের পর কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে অবস্থানরত তেলবাহী জাহাজগুলোতে পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে এসব জাহাজের কর্মীদের দ্রুত জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বার্তাসংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির নৌবাহিনী এ সতর্কবার্তা দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, কয়েকটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে মার্কিন বাহিনীর হামলার জবাব হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইরানি নৌবাহিনী জানিয়েছে, কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে নোঙর করা সব তেলবাহী জাহাজের কর্মীদের অবিলম্বে জাহাজ ছেড়ে যেতে হবে। এসব জাহাজকে হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবেও সতর্ক করা হয়েছে।
বিবৃতিতে কুয়েত ও বাহরাইনের বিরুদ্ধে মার্কিন সেনাদের আশ্রয় দেওয়া এবং ইরানি জাহাজে হামলার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করার অভিযোগ তুলেছে তেহরান।
একই সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে থাকা সব তেলবাহী ট্যাংকারের কর্মীদের অবিলম্বে জাহাজ ছেড়ে যেতে হবে। জাহাজগুলো নোঙর করা অবস্থায় থাকুক কিংবা বন্দরে অবস্থান করুক, সেগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি।
ইরানের এই হুমকির পেছনে রয়েছে ইরানি তেলবাহী জাহাজে সাম্প্রতিক মার্কিন হামলা। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত দুই দিনে ইরানের আইআরজিসি একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে দুবার হামলার চেষ্টা চালায়। তবে দুই দফা হামলাই এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয় যুদ্ধজাহাজটি। এতে কোনো মার্কিন সেনা বা কর্মী আহত হননি বলে জানিয়েছে সেন্টকম।
এরপরই পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানের কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। সেন্টকমের তথ্যমতে, হামলার শিকার ট্যাংকারগুলো হলো—এম/টি কাভিজ, এম/টি চারমিনার, এম/টি হরাইজন-১ এবং এম/টি রিয়েস্কো। এসব জাহাজ ওমান উপসাগরে অবস্থান করছিল। এ ছাড়া খার্গ দ্বীপের কাছে এম/টি দেরিয়া নামের আরও একটি ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়।
সেন্টকম জানিয়েছে, হামলার আগে ট্যাংকারগুলোর কর্মীদের জাহাজ ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপর জাহাজগুলোতে হামলা চালিয়ে অচল করে দেওয়া হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিও খার্গ দ্বীপের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি খার্গ দ্বীপের মাধ্যমে হতো। হামলার পর সংশ্লিষ্ট জাহাজের কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ওমান উপসাগরের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাস্ক বন্দরের কাছেও একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরআইবি।
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা যখন বাড়ছে, তখনই এসব হামলা ও পাল্টা হুমকির ঘটনা ঘটল। যদিও গত জুনে দুই পক্ষ একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছিল। ওই সমঝোতায় বৃহত্তর শান্তি চুক্তির পথে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি সম্ভাব্য সমাধানের কথা বলা হয়েছিল।
তবে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলা ও হুমকিতে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে পরিস্থিতি আবারও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
সময়ের আলো/এসএকে