গণমাধ্যম সম্মিলনে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী

সম্পাদক পরিষদ এবং নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ‘গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬’।শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর

2026-01-18T00:43:41+00:00
2026-01-18T00:43:41+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
রাজধানী
গণমাধ্যম সম্মিলনে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৪৩ এএম 
‘গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬’ এর মঞ্চে সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকদের একাংশ। ছবি : সংগৃহীত
সম্পাদক পরিষদ এবং নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ‘গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬’।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত গণমাধ্যম সম্মিলনে অনুষ্ঠিত হয়।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বের হওয়া পত্রিকার সম্পাদক ও প্রেসক্লাবের নেতাদের প্রতিনিধিত্ব ছিল সেখানে। তেমনই ছিলেন দেশের টেলিভিশন ও অনলাইনের সম্পাদক ও গণমাধ্যমকর্মীরা। লক্ষ্য— গণমাধ্যমের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও স্বাধীনতা রক্ষা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার সমুন্নত রাখা।

উপস্থিত সাংবাদিকদের অধিকাংশকেই বলতে শোনা যায়, সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া বিকল্প নাই। সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ না হলে স্বার্থান্বেষী মহল সুবিধা নেবে। রাজনৈতিক মতাদর্শের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ঐক্যবদ্ধের ব্যত্যয় ঘটলে এর প্রভাব কোনো না কোনো সময় সাংবাদিকদের উপর এসে পড়ে। এমন কী সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনাগুলো বাড়তে থাকে। তাই একেকজন একেক মতাদর্শের থাকতেই পারে, কিন্তু পেশাগত ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

গণমাধ্যম সম্মিলনে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নুরুল কবীর বলেন, ‘গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নে যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করে সেগুলোকে রাষ্ট্র, সরকার, আইনগতভাবে কিংবা পেশিশক্তির মাধ্যমে স্তব্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এর জন্য নিজেদের মধ্যে একদিকে যেমন এই সংঘবদ্ধতার প্রয়োজন, তেমনি সম্মিলিত প্রয়াসগুলো গ্রহণ করার প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেরা নিজেদের যদি সম্মানিত করতে না পারি, তাহলে অন্যরা আমাদেরকে সম্মান করবে না। এই অসম্মানিত অবস্থার অস্তিত্বকে কোনো কায়েমী স্বার্থ কখনও ভয় পায় না। আমাদেরকে কায়েমী স্বার্থের জন্য একটা সম্মানিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আমরা কাজ করে যাব। সংবাদকর্মীদের আচরণবিধি যোগ্যতা ইত্যাদি নিয়ে আমরা কাজ করবার চেষ্টা করছি। হয়তো আপনাদের সহযোগিতা পেলে আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।’

গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ বলেন, ‘সাংবাদিকদের মান রক্ষা না করতে পারার পেছনে অনেক কারণ আছে। সাংবাদিকরা অনেকেই বিভিন্ন চরিত্র বহন করে, কেউ শিক্ষক, কেউ ঠিকাদার, কেউ রাজনীতিবিদ। এই ধরনের কেউ গ্রেফতার হলে তার কী পরিচয় দিয়ে আমরা সংবাদের শিরোনাম করবো? গণমাধ্যমের জন্য যে সুপারিশ সেটা শিকেয় তুলে রাখা হয়েছে। নির্বাচনের আগে সাংবাদিকেরা চরম ঝুঁকির মুখে থাকেন। সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন না হওয়ায় ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের ওপর কোনো হামলা হলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে।’

যায়যায়দিন পত্রিকার সম্পাদক শফিক রেহমান বলেন, ‘ঐক্যবদ্ধ হতে হলে সাংবাদিকদের কিছু গুন থাকতে হবে। এ জন্য বেশি করে বই পড়তে হবে, বিশেষজ্ঞ হতে হবে। আমি নিজেও কিছু গুন অর্জন করেছিলাম। বই পড়ুন, বই পড়ুন, বই পড়ুন।’

পিআইবি’র মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, গণমাধ্যম সংস্কারের ১২টি সুপারিশের একটিও করা হলো না। এটা কোন অদৃশ্য কারণে সেটা বোধগম্য নয়। একজন সাংবাদিক যখন একবার সাংবাদিকতা শুরু করেন তার আর বিচ্যুতি নাই। তিনি সরেও যেতে পারেন না সাংবাদিকতা থেকে। তার চোখ মন সব কিছু সাংবাদিকতা নিয়ে কাজ করে। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো অপচেষ্টা সফল হবে না। তাই এই ঐক্য টিকে থাকুক, সফল হোক।

ঢাকার বাইরে থেকে আসা সাংবাদিকরা বলেন, ‘পড়াশুনা না জানা অনেকেই পত্রিকা বের করে ব্যবসায়িক স্বার্থে। আইন করে এটার সমাধান করা দরকার। ঢাকার বাইরে আমরা ২৪ ঘণ্টা অনিরাপদভাবে বসবাস করছি। যারা মাঠে কাজ করে সেই প্রকৃত সাংবাদিকরা যেন আগামী নির্বাচনে সঠিকভাবেই কাজ করতে পারে। এ জন্য একটা ফোরাম তৈরি করা উচিত।’

লক্ষীপুর প্রস ক্লাবের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সাংবাদিকদের নির্যাতনের বিষয়ে যখন যাবো তখন যেন নিজেদের মতাদর্শ প্রদর্শন না করি। অযোগ্য লোকদের সম্পাদক বানানো বন্ধ করতে হবে। মফস্বল থেকে লোক নিয়েও সম্পাদক বানানো দরকার। তাহলে তারা মফস্বল সাংবাদিকদের কষ্ট বুঝবে।’

যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি একরাম উদ্দৌলা বলেন, ‘যশোরে সাংবাদিক হত্যার বিচার পাইনি আজও। কারণ, আমরা ঐক্যবদ্ধ নয়। প্রকৃত ঐকো থাকলে আমাদের উপর হামলা ও মামলা করতে ভয় পাবে। আমাদের প্রতিষ্ঠানে যেন কেউ আগুন দিতে না পারে সেই জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

/এমএইচআর 


  বিষয়:   গণমাধ্যম সম্মিলন  সাংবাদিকতা  সাংবাদিক 


Loading...
Loading...
রাজধানী- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: