শস্য ভাণ্ডার খ্যাত উত্তরের বৃহৎ জেলা নওগাঁ। বৃহৎ মোকাম হওয়ার পরও জেলায় বেড়েছে চালের দাম। দুই সপ্তাহের ব্যবধানের পাইকারিতে চিকন চাল কেজিতে এক থেকে দেড় টাকা বাড়লেও খুচরা বাজারে দাম বেড়েছে ৪-৫ টাকা। তবে মোটা জাতের চালের দাম কমেছে কেজিতে ৫ টাকা।
নওগাঁ পৌর খুচরা চাল বাজার সূত্রে জানা যায়, চিকন চালের সরবরাহ কমেছে। এতে ৪-৫ টাকা দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে কাটারি ভোগ ৭৫-৭৬ টাকা, জিরা শাইল ৬৮-৭০ টাকা, ব্রিআর-২৮ চাল ৬০-৬২ টাকা এবং আতব চাল ১৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে দাম কমে স্বর্ণা-৫ চাল বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৫০ টাকা।
জেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, নওগাঁয় মোট উৎপাদিত ধানের মধ্যে ৫১ শতাংশ চিকন এবং মোটা জাতের ধান ২৯ শতাংশ। বাকি ৩০ শতাংশ সুগন্ধি জাতের ধান। জেলায় বোরো মৌসুমে প্রায় এক লাখ ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়। এ মৌসুমে উৎপাদিত ধান থেকে সারা বছর জেলা এবং জেলার বাইরের চাহিদা মেটানো হয়। বাজারে বোরো ধানের যোগান কমে আসায় চিকন চালের দাম বেড়েছে।
এদিকে, বাজারে চালের দাম বাড়ায় অস্বস্তিতে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের পরিবারগুলো। চালের দাম শোনার পর অনেকে হতভম্ব হয়ে পড়েছেন। চাহিদা অনুযায়ী চাল কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় জীবনযাত্রা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ এসব নিম্ন আয়ের মানুষদের।
ক্ষোভ প্রকাশ করে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েন সাধারণ ভোক্তারা।
শহরের চকমুক্তার মহল্লার অটো রিকশাচালক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে দিনে আয় হয় ৭০০-৮০০ টাকা। এর মধ্যে ৩৫০ টাকা রিকশা ভাড়া দিতে হয়। পরিবারের জন্য প্রতিদিন এক কেজির ওপর চাল লাগে। এছাড়া শাক-সবজি ও মাছসহ অন্য বাজারও লাগে। তবে প্রতিদিন দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে প্রয়োজনীয় নিত্য-পণ্য কিনতে কষ্ট হচ্ছে।
দিনমজুর আফসার আলী বলেন, বাড়িতে প্রতি সপ্তাহে ১০ কেজি করে চাল লাগে। এক সপ্তাহ আগেও জিরা শাইল ৬৪ টাকা করে কিনেছিলাম। এখন সেই চাল ৬৮ টাকা কেজি কিনতে হয়েছে। আমরা চালের দেশে বসবাস করি। তারপরও বেড়েছে চালের দাম। এর জন্য ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট দায়ী হতে পারে। তাই প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি।
খুচরা চাল বিক্রেতা রাশেদুল হক বলেন, আমরা চিকন চাল ঠিকমতো পাচ্ছি না। বেশি দামে চাল কিনে, বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে মোটা চালের দাম কিছুটা কমেছে। চালের দাম বাড়ায় বেচাকেনাও কমে গেছে।
নওগাঁ জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, বোরো ধানের মজুত শেষ হয়ে এসেছে। এতে বাজারে সরবরাহ কমে আসায়, কাটারিভোগ ও জিরাশাইল এক হাজার ৭৫০ টাকা থেকে এক হাজার ৮৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। ধানের বাজার বাড়তি হওয়ায় চালের দামও বেড়েছে।
এফআর