রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে নুরুল ইসলাম মনি নামে এক জামায়েত নেতা ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে সরকারি রাস্তার ২৯টি তালগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। লুট করা গাছ বিক্রি করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।
শুধু তাই নয়, এ ঘটনায় প্রতিবাদ করায় এক ব্যক্তিকে মারধর, বসতভিটা দখলের চেষ্টা, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
এসব ঘটনায় রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার শোনশুনি পাড়ার বাসিন্দা ভুক্তভোগী মইদুল ইসলাম গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের অনুলিপি রাজশাহী জেলা প্রশাসককেও দেওয়া হয়েছে।
লিখিত অভিযোগপত্রে নুরুল ইসলাম মনির রাজনৈতিক পরিচয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করে তাকে একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, নুরুল ইসলাম মনি রাজশাহী মহানগর জামায়াতের রাজপাড়া থানা কমিটির আমির। তিনি গোদাগাড়ীর শোনশুনি পাড়ার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে। বর্তমানে রাজশাহী মহানগরীর বহরমপুর এলাকায় বসবাস করছেন তিনি।
ভুক্তভোগী মইদুল ইসলাম তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, মাস তিনেক আগে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নুরুল ইসলাম মনি ও তার ভাইরা কোনো ধরনের সরকারি অনুমতি ছাড়াই এলাকার সরকারি রাস্তার পাশ থেকে ২২টি প্রাপ্তবয়স্ক তালগাছ কেটে বিক্রি করেন। এরপর গত ২৫ ডিসেম্বর মনির মদদে তার ভাই রফিকুল ইসলামসহ অন্য ভাই ও ভাতিজারা মিলে একই রাস্তার পাশ থেকে আরও ৭টি তালগাছ কাটেন।
গাছ কাটায় মইদুল প্রতিবাদ জানালে তার খামারের ভেতরে থাকা একটি বরই গাছও জোরপূর্বক কেটে নেওয়া হয়। বিষয়টি তিনি স্থানীয় ভূমি অফিসে মৌখিকভাবে জানালে ক্ষুব্ধ হয়ে মনির ভাই রফিকুল ইসলামসহ অন্যরা তার বসতভিটা দখলের চেষ্টা করেন। বাধা দিলে তাকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। গত ৪ জানুয়ারি তিনি গোদাগাড়ী উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরদিন ৫ জানুয়ারি নিজেকে আহত দেখিয়ে উল্টো তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেন রফিকুল।
মামলার পর থেকেই তাকে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এলাকাবাসী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম মনি বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই রাজশাহী শহরে থাকি। এলাকার জমিজমা আমি চিনি না। এসব ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। আমার ভাইরা সেখানে থাকেন। তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।
পরে তার ভাই শামসুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা সরকারি রাস্তার কোনো তালগাছ কাটিনি। নিজেদের জমির তালগাছ কেটেছি। রাস্তার গাছ কে কেটেছে সে বিষয়ে আমি জানি না।
এ প্রসঙ্গে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুস সাদাত রত্ন বলেন, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হবে। যদি সরকারি রাস্তার গাছ কাটা হয়ে থাকে, তা হলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এফআর