যমুনায় নাব্যতা সংকটে নৌ চলাচল বন্ধ

আজিজ আহমেদ রুবেল, বগুড়া

সারাদেশ

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর নাব্যতা সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এতে হরহামেশাই ডুবোচরে আটকে যাচ্ছে নৌকা। উপজেলার বেশ কয়েকটি নৌরুট

2026-01-18T20:44:53+00:00
2026-01-18T20:44:53+00:00
 
  সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬,
৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
যমুনায় নাব্যতা সংকটে নৌ চলাচল বন্ধ
আজিজ আহমেদ রুবেল, বগুড়া
প্রকাশ: রোববার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৪ পিএম 
যমুনায় নাব্যতা সংকটে নৌ চলাচল বন্ধ। সংগৃহীত ছবি
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর নাব্যতা সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এতে হরহামেশাই ডুবোচরে আটকে যাচ্ছে নৌকা। উপজেলার বেশ কয়েকটি নৌরুট গত কয়েক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে নৌপথের যাত্রীদের পাশাপাশি চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে চরাঞ্চলের কৃষকদের। সারিয়াকান্দি উপজেলার চরাঞ্চলের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহন করতে পারছেন না। বিগত কয়েক মাস হলো যমুনা নদীর পানি একেবারেই তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। 

সারিয়াকান্দি উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া যমুনা নদীজুড়ে প্রকট নাব্যতা সংকট বিরাজমান রয়েছে। মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে ডুবোচর। নাব্যতা সংকটের কারণে যমুনা নদীতে অসংখ্য ডুবোচরের সৃষ্টি হয়েছে। এসব ডুবোচরে প্রতিনিয়ত মাঝিদের নৌকা আটকে যাচ্ছে। 

উপজেলার ব্যস্ততম নৌরুট সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ নৌরুট। এই রুটের কালিতলা গ্রোয়েনবাঁধ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিশালাকার চরের সৃষ্টি হয়েছে। মাঝিদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে সেই চর কেটে ড্রেনের মতো সরু একটি খাল তৈরি করা হয়েছে। সেই পথ দিয়ে খুবই কষ্টে প্রতিদিন শতাধিক নৌকা উপজেলার বিভিন্ন নৌঘাটে কোনোরকমে চলাচল করছে। 

জীবিকা ও প্রয়োজনের তাগিদে অনেক সময় ঝুঁকি নিয়ে সামান্য গভীর পানিতেই নৌকা ভাসাচ্ছেন মাঝিরা। বিপত্তি ঘটছে যখন নৌকা পানির নিচে লুকিয়ে থাকা ডুবোচরে আটকে যাচ্ছে। যাত্রীবোঝাই নৌকা ডুবোচরে আটকে গেলে পানিতে নেমে অনেক কষ্ট করে হাত দিয়ে ঠেলে ডুবোচর থেকে সরিয়ে নিতে হচ্ছে মাঝিদের। সব মিলিয়ে নৌকা পারাপারে অচলাবস্থার কারণে ভোগান্তির শেষ নেই সারিয়াকান্দিবাসীর। 

এদিকে নাব্যতা সংকটে উপজেলার পারতিত পরল গ্রামের আলতাফ আলীর খেয়াঘাট, হাসনাপাড়া খেয়াঘাট, নিজবলাই খেয়াঘাট, দিঘাপাড়া খেয়াঘাট, চারালকান্দি খেয়াঘাটসহ বেশকিছু খেয়াঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া নাব্যতা সংকটে উপজেলার যমুনা নদী-সংলগ্ন বেশিরভাগ এলাকা ধু-ধু বালুচরে পরিণত হয়েছে। 

এসব বালুচর ডিঙিয়ে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য খুবই কষ্টে পরিবহন করছেন। কেউবা ঘোড়ার গাড়িতে উচ্চ ভাড়ায় অথবা কেউবা পায়ে হেঁটে ঘাড়ে করে তাদের কৃষিপণ্য পরিবহন করছেন। উপজেলায় উৎপাদিত কৃষি ফসলের প্রায় অর্ধেকের বেশি ফসল যমুনার চরাঞ্চলে উৎপাদিত হয়। এসব ফসল পরিবহনে কৃষকদের ভোগান্তির পাশাপাশি বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। এতে তাদের ফসলের উৎপাদন খরচ বাড়ছে, সঙ্গে বাড়ছে লোকসানের অঙ্ক। 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাত্র কয়েক বছর আগেও বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় যমুনা নদীতে প্রচুর পানিপ্রবাহ ছিল। বিশেষ করে বর্ষায় রুদ্রমূর্তি ধারণ করত প্রমত্তা যমুনা। বন্যায় ডুবে যেত উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। অথচ গেল বর্ষায় সারিয়াকান্দিতে বন্যা তো দূরের কথা, যমুনা নদীর পানি বিপদসীমাই অতিক্রম করেনি।


সারিয়াকান্দি আলতাফ আলী খেয়াঘাটের মাঝি আলতাফ আলী জানান, যমুনা নদীর নাব্যতা সংকটের কারণে তার খেয়াঘাট গত কয়েক মাস ধরেই বন্ধ রয়েছে। যত টাকা দিয়ে নৌঘাটটি তিনি ইজারা নিয়েছেন সেই টাকাই এ বছর তার উঠবে না।

কাজলা ইউনিয়নের কুড়িপাড়া চরের কৃষক মহসিন আলী বলেন, নদীতে যদি পানি থাকত তা হলে আমরা খুব সহজেই নৌকায় আমাদের কৃষি ফসলগুলো বাজারজাত করতে পারতাম। পানি না থাকায় ঘোড়ার গাড়িতে এসব ফসল বাজারে নিয়ে যেতে হচ্ছে। মরিচসহ নানা ধরনের কৃষি ফসল এমনকি সার পরিবহনের জন্যও বস্তা প্রতি ভাড়া গুনতে হচ্ছে ১২০ টাকা। এতে আমাদের ফসলের উৎপাদন খরচ বাড়ছে, অপরদিকে সেই অনুযায়ী আমরা বাজারে দাম পাচ্ছি না। 

সারিয়াকান্দি কালিতলা নৌঘাটের মাঝি আমিনুল ইসলাম বলেন, যমুনা নদীতে চলাচল করতে নৌকা বারবার চরে আটকে যাচ্ছে। খুবই কষ্টে আমরা পারাপার করছি। নিজেদের টাকা দিয়ে ড্রেজিং করে উপজেলার ব্যস্ততম নৌপথ কোনো রকমে চালু রেখেছি।


এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, সারিয়াকান্দিতে নৌবন্দর স্থাপনের কাজ চলমান। নৌবন্দর হলে সারা বছর নৌপথ ড্রেজিংয়ের আওতায় থাকবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি। 

এ ছাড়া নদীর ড্রেজিংয়ের বিষয়ে জানার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান।

এফআর


  বিষয়:   বগুড়া  যমুনা  নাব্যতা সংকট  নৌ চলাচল বন্ধ 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: