প্রথমবারের মতো বড়পর্দায় জুটি বাঁধতে যাচ্ছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমণি ও অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আলোচিত ছোটগল্প ‘শাস্তি’ অবলম্বনে লীসা গাজী নির্মাণ করতে যাচ্ছেন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘শাস্তি’। এই চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়েই দেখা যাবে একসঙ্গে দেখা যাবে তাদের। আজ চলচ্চিত্রটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসছে।
চলচ্চিত্রটি নিয়ে নির্মাতা জানান, রবীন্দ্রনাথের মূল গল্প থেকে অনুপ্রাণিত হলেও চলচ্চিত্রটি হুবহু পুনর্নির্মাণ নয় বরং বর্তমান সময় ও প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গল্পটি নতুন ভাষায় উপস্থাপন করা হবে। আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে মূল গল্পের মানবিক ও সামাজিক গভীরতা ধরে রাখাই নির্মাতার মূল লক্ষ্য।
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শক্তিশালী ও মানবিক গল্প হিসেবে পরিচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শাস্তি’ গ্রামীণ সমাজব্যবস্থা, পারিবারিক সম্পর্ক, পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা এবং নারীর নীরব আত্মত্যাগের এক তীব্র প্রতিচ্ছবি। গল্পের কাহিনী আবর্তিত হয়েছে দুই ভাই- চিদাম ও দুখিরামের পারিবারিক জীবনের প্রেক্ষাপটে। একটি তুচ্ছ বিরোধের জেরে চিদাম হঠাৎ রাগের বশে দুখিরামের স্ত্রীকে হত্যা করে ফেলে। পরবর্তী সময়ে আইনের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে সে নিজের স্ত্রী চন্দরার ওপর হত্যার দায় চাপিয়ে দেয়।
সমাজ ও স্বামীর চাপের মুখে চন্দরা নির্দোষ হয়েও সেই দায় স্বীকার করে নেয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সত্য প্রকাশের সুযোগ পেয়েও চন্দরা নীরবতা বেছে নেয়। তার এই নীরবতাই গল্পের সবচেয়ে গভীর ও শক্তিশালী প্রতিবাদ হয়ে ওঠে- যেখানে আত্মসম্মান, বিশ্বাসভঙ্গ ও সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে নারীর শেষ অবস্থান স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
‘শাস্তি’ কেবল একটি হত্যাকাণ্ডের গল্প নয়; বরং এটি নারীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া অন্যায়, নৈতিক অবক্ষয় এবং সমাজের নির্মম বাস্তবতার এক তীব্র দলিল। জানা গেছে, চলচ্চিত্রটির প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একাধিক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান।
এএডি/