বিএনপির প্রধানকে নিয়ে সরকার বাড়াবাড়ি করছে : জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজনীতি

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিকে ইঙ্গিত করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেছেন, একটি দলের

2026-01-18T21:25:31+00:00
2026-01-18T21:30:37+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
রাজনীতি
বিএনপির প্রধানকে নিয়ে সরকার বাড়াবাড়ি করছে : জামায়াত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:২৫ পিএম  আপডেট: ১৮.০১.২০২৬ ৯:৩০ পিএম  (ভিজিট : ২০৫)
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের। সংগৃহীত ছবি
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিকে ইঙ্গিত করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেছেন, একটি দলের (বিএনপি) প্রধানকে নিয়ে সরকার বাড়াবাড়ি করছে। গত দুই-তিন সপ্তাহ ধরে একটি দলের শীর্ষ নেতাকে ঘিরে সরকারের অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও প্রটোকল দেওয়ার প্রবণতা নির্বাচনী মাঠে সমতার নীতির সরাসরি লঙ্ঘন। কারও নিরাপত্তা বা প্রটোকলে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু একটি প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানকেও একইভাবে প্রটোকল এবং নিরাপত্তা দিতে হবে। অন্যথায় এটি পক্ষপাতমূলক আচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মাদ ইউনূসের সঙ্গে জামায়াতের প্রতিনিধি দলের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। এর আগে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার পর জামায়াত আমিরের নেতৃত্বে দলটির এই চার সদস্যের প্রতিনিধিদল যমুনায় প্রবেশ করেন।

দেশের প্রশাসন ধীরে ধীরে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে বলে অভিযোগ তুলে ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে জনগণের মধ্যে সংশয় ও হতাশা তৈরি হবে। একইসঙ্গে নির্বাচনী মাঠে সমতার নীতি ভঙ্গ হলে দায় এড়াতে পারবে না নির্বাচন কমিশন। সারা দেশে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের আচরণে বিএনপির প্রতি পক্ষপাতের বিষয়টি এখন দৃশ্যমান। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে দায়িত্বে থাকা এসপি ও ডিসিদের, যারা একইসঙ্গে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন, আচরণে নিরপেক্ষতার ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকর্তাদের একটি তালিকা তারা এর মধ্যে করেছেন বলেও জানান তিনি। তবে আপাতত বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং এখনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।

জামায়াতের শীর্ষ এ নেতা বলেন, আমরা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভিন্ন চিত্র দেখছি, এসব বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। এখানে দুটি প্রধান বিষয় ছিল, ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্ব। কিছু কিছু জায়গায় একই বিষয়ে ইসির ভিন্ন আচরণ দেখছি। একটি দল থেকে ইসিকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। তবে, চাপে নতি স্বীকার না করে সব দলের জন্য একই নিয়মে হতে হবে।

জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি এ ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে জাতি একে পক্ষপাতমূলক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করবে এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। এসব বিষয়ে আমরা সরাসরি প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি এবং প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন যথাযথ ভূমিকা না নিলে প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছি।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে প্রধান উপদেষ্টা ব্যক্তিগতভাবে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চান। তবে তার আশপাশে থাকা কিছু উপদেষ্টা তাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ তুলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আহ্বান জানান জামায়াতের নায়েবে আমির।


দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে ডা. তাহের জানান, প্রধান উপদেষ্টা তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, মন্ত্রিপরিষদ পর্যায়ে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এজন্য প্রয়োজনীয় অর্থও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, যদি সত্যিই প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়, তাহলে এটিকে একটি উল্লেখযোগ্য ও ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে আমরা দেখব। এ কারণে প্রধান উপদেষ্টাকে আগাম ধন্যবাদ জানানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম বরিশাল-৫ (সদর-সিটি) ও বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে নির্বাচন করবেন। এর মধ্যে একটি আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুন্নবীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমিরের আসনে জামায়াতের কোনো প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সৌজন্যতার জন্য ফয়জুল করিমের আসনে জামায়াতের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। বরিশাল-৬ আসনে জামায়াতের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।

ইসলামপন্থী দলগুলোর ভোট এক বাক্সে নেওয়ার লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যে দলগুলোর নির্বাচনী ঐক্যের আলোচনা ছিল সেখানে সামনের কাতারে ছিল ইসলামী আন্দোলন। জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনসহ আট দল গত প্রায় এক বছর যুগপৎ আন্দোলন করেছে।

সম্প্রতি ইসলামপন্থী দলগুলোর এই নির্বাচনে ঐক্যে যোগ দেয় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সব মিলিয়ে সেখানে দলের সংখ্যা দাঁড়ায় ১১টি। কিন্তু আসন সমঝোতা নিয়ে মতবিরোধ থেকে জোটে না গিয়ে আলাদা নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন। এই প্রেক্ষাপটে দলটির নেতা সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিমের একটি আসনে প্রার্থী না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

আরআর



  বিষয়:   জামায়াত ইসলামী  ডা  তাহের  বিএনপি 


Loading...
Loading...
রাজনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: