সাভারে পরিত্যক্ত পৌরসভা কমিউনিটি সেন্টারকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। ভবঘুরের ছদ্মবেশে ছয়টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মশিউর রহমান খান সম্রাট (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে সাভার মডেল থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস্ ও ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে জোড়া মরদেহ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন একজনকে শনাক্ত করা হয়। ফুটেজে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময় ধরে ভবনটির আশপাশে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিল। তার চলাচল, অবস্থান ও সময়ের মিল পাওয়ায় নজরদারি জোরদার করা হয়। একপর্যায়ে অভিযান চালিয়ে মশিউর রহমান খান সম্রাটকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তি কমিউনিটি সেন্টারে পাওয়া সর্বশেষ দুই মরদেহসহ মোট ছয়টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি পুলিশের।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম বলেন, গত পাঁচ মাসে সাভার এলাকায় ধারাবাহিকভাবে ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয় সাভার মডেল মসজিদের সামনে। ঘটনার ধরন ও আলামত বিশ্লেষণ করে সবগুলো হত্যাকাণ্ডের পেছনে একই ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। পুলিশ জানায়, গ্রেফতার সম্রাট সাভারের ব্যাংক কলোনী এলাকার মৃত সালামের ছেলে।
আরও পড়ুন
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে এক অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার দুই হাত গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল। ওই ঘটনায় সাভার মডেল থানায় মামলা করা হয়।
এরপর একই বছরের ১১ অক্টোবর একই ভবনের দ্বিতীয় তলার বাথরুমের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথা ও গলায় কাটা জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়। ওই ঘটনায়ও পৃথক মামলা হয়।
এর দুই মাস পর ১৯ ডিসেম্বর একই ভবনের একটি বাথরুমের ভেতর থেকে আগুনে পোড়া ও গলিত অবস্থায় আরেকটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ গত ১৮ জানুয়ারি একই ভবনের দ্বিতীয় তলার বাথরুমের ভেতর থেকে এক পুরুষ ও এক কিশোরীর আগুনে পোড়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের ৪ জুলাই সাভার মডেল মসজিদ সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক বৃদ্ধা নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ধারণা করছে, এই ঘটনাটিও একই সিরিজ হত্যাকাণ্ডের অংশ।
পুলিশ জানায়, প্রতিটি ঘটনার পর সাভার মডেল থানা ও ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। পৌরসভার সহায়তায় কমিউনিটি সেন্টার এলাকা পরিষ্কার করা একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এর ফলেই সর্বশেষ ঘটনায় ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম জানান, গ্রেফতার আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। রিমান্ড মঞ্জুর হলে হত্যাকাণ্ডের পেছনের উদ্দেশ্য, অন্য কেউ জড়িত আছে কি না এবং অন্য কোথাও এ ধরনের অপরাধ করেছে কি না তা বিস্তারিতভাবে জানা যাবে।
তিনি আরও বলেন, অভিযুক্তের দেওয়া ঠিকানায় অভিযান চালিয়েও তার স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিত করা যায়নি। তবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মাফলার ও আগুন লাগানোর কাজে ব্যবহৃত একটি দেশলাই আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সাভারের আলোচিত এই সিরিয়াল হত্যাকাণ্ডের পূর্ণ রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।
এএডি/