বিহারের বিধায়ক নীতিন নবীনকে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নতুন জাতীয় সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। মাত্র ৪৫ বছর বয়সে তিনি দলের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি হয়েছেন। এটি বিজেপির নেতৃত্বে বড় প্রজন্মগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তার নিয়োগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং সদ্য বিদায়ী সভাপতি জে.পি. নাড্ডার পূর্ণ সমর্থন ছিল বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় স্পষ্ট, দলের ভেতরে তার প্রতি আস্থা রয়েছে। আসন্ন রাজ্য ও জাতীয় নির্বাচনের আগে বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনীতিতে প্রবেশ ও উত্থান
২০০৬ সালে নীতিন নবীন মূলধারার রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তার বাবা ও প্রবীণ বিজেপি নেতা নবীন কিশোর সিনহার মৃত্যুর পর তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। পড়াশোনা অসমাপ্ত রেখেই তিনি পাটনা পশ্চিম (বর্তমানে বাঁকিপুর) বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন।
এরপর টানা পাঁচবার ওই আসন থেকে জয়ী হয়ে তিনি বিহারের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান গড়ে তোলেন। তৃণমূল স্তরে সক্রিয়তা, সংগঠনিক দক্ষতা এবং ধারাবাহিক নির্বাচনী সাফল্যের মাধ্যমে তিনি দলের নির্ভরযোগ্য নেতা হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
সংগঠনের কাজ থেকে শীর্ষ নেতৃত্বে
নীতিন নবীন দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। তিনি বিহার সরকারের পূর্তমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাকে দলের কার্যকরী সভাপতি করা হয়। এর এক মাসের মধ্যেই তিনি জে.পি. নাড্ডার উত্তরসূরি হিসেবে জাতীয় সভাপতির দায়িত্ব পান। এর ফলে দলের নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে চলা জল্পনার অবসান ঘটে।
সভাপতি হওয়ার পর থেকেই তিনি বিভিন্ন রাজ্যে সফর করে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। তিনি গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে সংসদ পর্যন্ত বিজেপির উপস্থিতি শক্তিশালী করার আহ্বান জানাচ্ছেন।
‘বিকশিত ভারত’
তামিলনাড়ু, কেরালা ও আসামে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন নীতিন নবীনের নেতৃত্বের প্রথম বড় পরীক্ষা বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি বারবার বলেছেন, রাজনীতি কোনো স্বল্পদৌড় নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি ম্যারাথন, যার জন্য ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও ধারাবাহিক পরিশ্রম প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী মোদির ‘বিকশিত ভারত’ ভাবনাকে সামনে রেখে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, বিজেপির লক্ষ্য শুধু নির্বাচন জেতা নয়, বরং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত থাকা।
নির্বাচনী অভিজ্ঞতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা
২০২৩ সালের ছত্তিশগড় বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা হিসেবে তিনি দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। লোকসভা নির্বাচনেও সেই সাফল্যের ধারা বজায় থাকে, যেখানে বিজেপি রাজ্যের অধিকাংশ আসনে জয় পায়। এতে দলের ভেতরে তার বিশ্বাসযোগ্যতা আরও বেড়ে যায়।
ব্যক্তিগত জীবন ও ভাবমূর্তি
ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে জন্ম নেওয়া নীতিন নবীন বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক। তিনি শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন করেন এবং প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করেন। দলীয় নেতাদের মতে, সংগঠন পরিচালনার অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক বোঝাপড়ার সমন্বয়ই তাকে আলাদা করে তোলে।
বিজেপির জন্য নতুন অধ্যায়
নীতিন নবীনের নেতৃত্বে বিজেপি অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে বলে মনে করা হচ্ছে। দলের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি হিসেবে তিনি কীভাবে সাংগঠনিক শক্তিকে নির্বাচনী সাফল্যে রূপ দিতে পারেন, সেদিকেই এখন রাজনৈতিক মহলের নজর।
/ইউএমএইচ