ফিলিস্তিনের গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত ‘শান্তি পর্ষদে’ যোগ দিচ্ছে সৌদি আরব, তুরস্ক, মিসরসহ আরও সাতটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ।
বুধবার (২২ জানুয়ারি) দেশগুলো এক যৌথ বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়। এর আগে ট্রাম্পের আমন্ত্রণ মেনে শান্তি পর্ষদে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছে ইসরায়েল।
এই পর্ষদ গঠনের মূল উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধপরবর্তী গাজার পুনর্গঠন তদারকি করা। পর্ষদ ‘স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে টেকসই শান্তি নিশ্চিত করা’ লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে। ট্রাম্প নিজেই পর্ষদের চেয়ারম্যান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও সদস্য হিসেবে থাকবেন।
সংবাদ সংস্থা এএফপির হাতে থাকা পর্ষদের সনদ অনুযায়ী, এ সংস্থা শুধুমাত্র ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের জন্য সীমাবদ্ধ নয়। স্থায়ী সদস্য হতে চাইলে প্রত্যেক দেশকে ১০০ কোটি ডলার পর্যন্ত অর্থ দিতে হতে পারে।
সৌদি আরব জানিয়েছে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ সাতটি দেশ—সৌদি আরব, তুরস্ক, মিসর, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও কাতার—গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত, পুনর্গঠনে সহায়তা এবং ‘ন্যায়সংগত ও টেকসই শান্তি’ এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে একমত হয়েছে। পাকিস্তানও শান্তি পর্ষদে যোগ দিচ্ছে।
এছাড়া রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও ট্রাম্পের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। পুতিন জানিয়েছে, রাশিয়ার জব্দ থাকা সম্পদ থেকে তিনি ১০০ কোটি ডলার দিতে প্রস্তুত আছেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রেক্ষাপটে এই পর্ষদ প্রাসঙ্গিক বলে মনে করছেন।
ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদে এখনও নিশ্চিত না হলেও কানাডা ও যুক্তরাজ্যকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ফ্রান্সের আমন্ত্রণ পাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। ইতোমধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, আলবেনিয়া, কাজাখস্তান, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বেলারুশ, হাঙ্গেরি, মরক্কো ও ভিয়েতনাম যোগ দিয়েছে।
ভ্যাটিকান জানিয়েছে, পোপ লিওকে শান্তি পর্ষদে যোগ দিতে আমন্ত্রণ দেওয়া হয়েছে, তবে তিনি বিষয়টি বিবেচনা করবেন। অন্যদিকে, স্লোভেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট গোলোব জানিয়েছেন, তিনি যোগ দেবেন না কারণ তার মতে, ট্রাম্পের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় ‘বিপজ্জনক হস্তক্ষেপ’ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
/ইউএমএইচ