ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে প্রথমবারের মতো ত্রিপক্ষীয় বৈঠক সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হচ্ছে আজ। বৈঠকটি চলবে ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে ভাষণ দেওয়ার পর এক প্যানেল আলোচনায় জেলেনস্কি বলেন, আগামীকাল এবং পরশু আমাদের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হবে। কোনো সংলাপ না থাকার চেয়ে এটা অবশ্যই ভালো।
তিনি জানান, এটি হবে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের প্রথম সরাসরি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক। জেলেনস্কি আশা প্রকাশ করেন, এই আলোচনা যুদ্ধের অবসানের পথে অগ্রগতি আনতে পারে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠক করেন জেলেনস্কি। বৈঠকটিকে তিনি ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ বলে বর্ণনা করেন।
জেলেনস্কি বলেন, আজ আমাদের কর্মকর্তারা আমেরিকানদের সঙ্গে বৈঠক করছে। এরপর আমেরিকানরা আজ রাতে বা আগামীকাল রাশিয়ানদের সঙ্গে বৈঠক করবে। আমি জানি না, হয়তো পুতিন তখন ঘুমাচ্ছেন। তার মাথায় কী চলছে, কেউই নিশ্চিতভাবে জানে না।
কৌতুক অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া ইউক্রেনের এই নেতা বলেন, সমঝোতার জন্য শুধু ইউক্রেন নয়, রাশিয়াকেও প্রস্তুত থাকতে হবে। আমরা দেখব, এই আলোচনার ফলাফল কী হয়, বলেন তিনি।
তবে বৈঠকের নির্দিষ্ট ফরম্যাট বা উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা সরাসরি অংশ নেবেন কিনা, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি জেলেনস্কি।
দাভোসে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলেনস্কি ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ইউরোপ তার নিরাপত্তার জন্য অত্যধিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল।
তার ভাষায়, ইউরোপের প্রয়োজন একটি ঐক্যবদ্ধ সশস্ত্র বাহিনী, যে বাহিনী সত্যিকার অর্থে নিজেকে রক্ষা করতে পারবে। আজ ন্যাটোর অস্তিত্ব মূলত এই বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে যে যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করবে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য না করে, তখন কী হবে? বিশ্বাস করুন, এই প্রশ্নটি প্রতিটি ইউরোপীয় নেতার মনে ঘুরছে।
‘ইউক্রেন ন্যাটোতে থাকলে’
ন্যাটোর প্রসঙ্গে জেলেনস্কি আরও বলেন, ইউক্রেন যদি ন্যাটোর সদস্য হতো, তাহলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে জোটকে কার্যকরভাবে সহায়তা করতে পারত।
তিনি বলেন, রুশ যুদ্ধজাহাজ যদি গ্রিনল্যান্ডের কাছাকাছি অবাধে চলাচল করে, ইউক্রেন জানে কীভাবে সেখানে লড়াই করতে হয়। আমাদের দক্ষতা ও অস্ত্র রয়েছে, যাতে ওই জাহাজগুলোর একটিও অবশিষ্ট না থাকে।
তবে তিনি স্পষ্ট করেন, আমরা এখন তা করছি না। কিন্তু ইউক্রেন যদি ন্যাটোর অংশ হতো এবং আমাদের জিজ্ঞাসা করা হতো, আমরা জানি কী করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, আমিরাতে অনুষ্ঠিতব্য এই ত্রিপক্ষীয় বৈঠক যুদ্ধ অবসানে বড় কোনো অগ্রগতি না আনলেও অন্তত কূটনৈতিক অচলাবস্থা ভাঙার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হতে পারে।
/ইউএমএইচ