প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহম্মদ তৈয়্যব বলেছেন, কোনো প্রধানমন্ত্রী যাতে ফ্যাসিস্ট না হতে পারে, সেজন্য গণভোটের বিকল্প নেই। তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সবাইকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে মেহেরপুর আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন তিনি।
ফয়েজ আহম্মদ বলেন, বিগত দিনে যে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন, তার হাতেই ক্ষমতা ছিল। তিনিই সংসদীয় নেতা, সরকার প্রধান, মন্ত্রী পরিষদ নেতা, বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করেন। তার হাত ধরেই নিয়োগ হন প্রধান বিচারপতি এবং সংসদে আইনও পাশ করা হয়। তার ইচ্ছার বাইরে গিয়ে পুলিশ প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, দুদক কেউই কাজ করতে পারে না। ফলে বার বার ফ্যাসিস্ট ফিরে আসে। এজন্য এই দেশে ক্ষমতার ভারসাম্য, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা দরকার।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের সরকারের প্রধান দুটি সমস্যা। একটি হল, প্রতিষ্ঠাগুলো সবচাইতে দুর্বল, রাজনৈতিক কর্তৃত্ববাদের বিপরীতে গিয়ে নিজেদের ইচ্ছাগুলো বাস্তবায়ন করতে পারে না। অন্যটি হল, আমাদের প্রশাসনের স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতিতে আচ্ছন্ন। এ অবস্থায় শাসন বিধান, বিচার বিভাগ ও সংসদকে যদি আলাদা করতে না পারি, তবে প্রধানমন্ত্রীর পিএস, তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবের চাইতে বেশি মাত্রায় ক্ষমতাবান হয়ে যায়। ফলে প্রত্যেক প্রধানমন্ত্রীই স্বৈরাচার হয়ে যায়। এভাবে ৫৪ বছর ধরে একাধিক স্বৈরাচার আমরা দেখেছি।
তাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দুই হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ দেওয়ার পরও ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী যাতে আবারও স্বৈরাচারী না হয়ে উঠতে পারে, সেজন্য পরিবর্তনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটের কোনো বিকল্প নেয় বলে জানান প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহম্মদ তৈয়্যব।
বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ মোহাম্মদ সাইফুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শেখ বখতিয়ার উদ্দীন, জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির, পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থান ২য় সংশোধিত প্রকল্পের আওতায় ৬৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ১০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে মেহেরপুর আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার।
এফআর