জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারীর গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত ফিরোজা বেগমের (৭৫) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে স্থানীয় মাঠে জানাজা শেষে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
জানা গেছে, ফিরোজা বেগম শিবগঞ্জ উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী মৃত নিজামুদ্দীন সরদার।
এর আগে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পথে শুক্রবার সকালে মোকামতলা–জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের শিবগঞ্জ উপজেলার গোপীনাথপুরে সড়ক পার হওয়ার সময় জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারীর গাড়ির ধাক্কায় ফিরোজা বেগম আহত হন। পরে তাকে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নিহত ফিরোজার বাড়িতে যান শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাজুল ইসলাম। তিনি পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় ফিরোজা বেগমের লাশ দাফন করা হয়েছে। এ সময় স্থানীয় প্রশাসন ও বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাজুল ইসলাম বলেন, পরিবারের লোকজন এটিকে নিছক একটি দুর্ঘটনা হিসেবে দেখছেন। ইতোমধ্যেই জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারীর পক্ষ থেকে ওই পরিবারকে এক লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পক্ষ থেকে দাফনের জন্য তাৎক্ষণিক ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী নিজে এসে এই পরিবারের জন্য ভালো কিছু করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পাশাপাশি বিআরটিএর পক্ষ থেকে সরকারি সহায়তা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে।
স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফিরোজার বড় ছেলে ফেরদৌস হোসেন কয়েক বছর আগে মারা যান। ছোট ছেলে সেলিম সরদার কৃষি কাজ করেন। পাঁচ মেয়ের সবাই বিবাহিত। স্বামীর মৃত্যুর পর বড় ছেলে ফেরদৌসের স্ত্রী রিপা বেগম ও ছোট ছেলে সেলিমের স্ত্রী রেশমা বেগমের সঙ্গে থাকতেন ফিরোজা।
ফিরোজার ভাতিজা জাকির হাসান বলেন, বড় চাচা নিজামুদ্দীন মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্টে সংসার চালাতেন ফিরোজা। বিঘা দুয়েক জমি চাষাবাদ করে সংসার চলত। শুক্রবার গুজিয়ায় বড় মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার জন্য অটোরিকশা ধরতে মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন তিনি।
জাকির হাসান বলেন, তারা ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখছেন। এ ঘটনায় তাদের কোনো অভিযোগ নেই। বয়সের কারণে অসাবধানতাবশত মহাসড়ক পার হতে গিয়ে গাড়ির সঙ্গে ফিরোজার ধাক্কা লাগে বলে জানান তিনি।
ফিরোজার পুত্রবধূ রেশমা বেগম বলেন, ‘মেয়ের বাড়ি বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। পরে লাশ হয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি।’