ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রাজ্জাক মাতুব্বর (৪০) নামে এক যুবককে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। স্বজনদের দাবি, তাকে নিরাময় কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী পিটিয়ে হত্যা করেছে।
এদিকে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভিতরে থাকা রোগীরা সেখান থেকে বের হতে ভাঙচুর চালায়। তবে ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের মালিকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ভাঙ্গা পৌরসভার নওপাড়া গ্রামের ‘আলোর দিশা’ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে এসব ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবক পৌরসভার হাসামদিয়া গ্রামের সামাদ মাতুব্বরের ছেলে।
জানা গেছে, নিহত রাজ্জাক মাতুব্বরকে গত মঙ্গলবার রাতে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় আলোর দিশা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করান। তবে আজ সকাল নয়টার দিকে তার পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয় রাজ্জাক অসুস্থ এবং তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখানে হাসপাতালের বারান্দায় রাজ্জাকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা।
খবরটি ছড়িয়ে পড়লে রাজ্জাক মাতুব্বরের আত্মীয়-স্বজনসহ ওই কেন্দ্রে ভর্তি রোগীর লোকজন ভিড় করে। তবে এর আগেই কেন্দ্রের মালিক মিজানুর রহমানসহ কর্মরত লোকজন বাহিরে একাধিক তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভবনের সিসিটিভির ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করতে যায়। এসময় নিরাময় কেন্দ্রের ভেতরে আটকে থাকা ৪০/৫০ জন রোগীরা দরজা ভেঙে বের হয়ে আসে এবং ভেতরের সবকিছু ভাঙচুর চালায়। তাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ একাধিক অফিসার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি ভয়াবহতায় রূপ নেয়। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, রাজ্জাক মাতুব্বরের শরীরের বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ক্ষতস্থান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। তাকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার বিচারের দাবি জানান তারা।
এদিকে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন জেলা মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের উপপরিচালক শিরিন আক্তার এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ম্যাজিস্ট্রেট সাদরুল আলম।
বিকেল সোয়া ৫টার দিকে শিরিন আক্তার বলেন, মাদকাসক্ত কেন্দ্রটি সিলগালা করা হয়েছে। পুলিশ হেফাজতে থাকা ৫১ জন রোগীর পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা পৌঁছালে তাদের হস্তান্তর করা হবে।
ভাঙ্গা থানার ওসি আব্দুল আলীম জানান, ওই যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। খবর পেয়ে আমরা উদ্ধারে গেলে ভেতরে থাকা প্রায় অর্ধশতাধিক মাদকাসক্ত রোগী ভেতর থেকে দরজা ভেঙে বেরিয়ে এসে ভাঙচুর চালায়।
তিনি আরও জানান, নিহতের শরীরে বেশ কিছু দাগ রয়েছে এবং নাক কান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মর্গে প্রেরণ করে হয়েছে।
এফআর