যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের পর ইরানে হামলার ফের সম্ভাবনা বেড়েছে। এর প্রভাব হিসেবে একাধিক আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ফ্লাইট বাতিল এবং স্থগিত করেছে।
সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, লুফথানসা, কেএলএম রয়্যাল ডাচ এয়ারলাইন্স এবং এয়ার ফ্রান্স হঠাৎ করেই মধ্যপ্রাচ্যে বিমান চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটবে।
এয়ার ফ্রান্স জানিয়েছে, ২৩ ও ২৪ জুলাই তাদের দুবাইগামী ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কেএলএম রয়্যাল ডাচ এয়ারলাইন্স দুবাই, রিয়াদ, দাম্মাম এবং তেলআবিবে ফ্লাইট অনির্দিষ্টকাল স্থগিত করেছে। তারা জানিয়েছে, ইরান, ইরাক ও ইসরায়েলসহ গালফ অঞ্চলের কয়েকটি দেশের আকাশসীমা এড়িয়ে চলা হচ্ছে।
একই কারণে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ এবং এয়ার কানাডাও ইসরায়েলে ফ্লাইট বাতিল করেছে।
গত ডিসেম্বরে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। সহিংসতার পর ইরানের নিরাপত্তাবাহিনী কঠোর পদক্ষেপ নেয়। সেই সময় ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, যদি ইরান বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ না করে বা ফাঁসি স্থগিত না করে, তবে তিনি হামলার নির্দেশ দিতে পারেন। এরপর তিনি কয়েক সপ্তাহের জন্য হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে যান, তবে সস্প্রতি তিনি আবারও হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, আমরা আশা করি সামরিক বাহিনী কোনো যুদ্ধের জন্য নয়, কিন্তু আমরা সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। তাই এখন ইরানে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যদি কেউ হামলা করে, আমরা সেটিকে আমাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ হিসেবে নেব এবং কঠোরভাবে জবাব দেব।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দিকে একটি বড় সামরিক দল পাঠাচ্ছে। তবে তিনি আশা করছেন, সেটি ব্যবহার করার প্রয়োজন হবে না। তিনি ইরানকে সতর্ক করেছেন, যাতে বিক্ষোভকারীদের হত্যা বা পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু না করে।
ইরানি কর্মকর্তা আরও বলেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সার্বভৌমত্ব বা আঞ্চলিক নিরাপত্তা লঙ্ঘন করে, আমরা অবশ্যই প্রতিক্রিয়া দেখাব। তবে কী ধরনের জবাব হবে, তা এখন বলা যাচ্ছে না।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লে যুক্তরাষ্ট্র অতীতেও সামরিক বাহিনী পাঠিয়েছে। তবে গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ঘিরে কঠোর হামলার জন্য বড় ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছিল।
/ইউএমএইচ