উত্তরপ্রদেশে বুলডোজার দিয়ে মাদরাসা গুড়িয়ে দিল যোগী আদিত্যনাথের প্রশাসন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে সরকারি জমি দখলমুক্ত করার অজুহাতে এক বিশাল উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে যোগী আদিত্যনাথের প্রশাসন। গত বুধবার (৩ জুন) দাসনার

2026-06-04T09:26:25+00:00
2026-06-04T09:26:25+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
উত্তরপ্রদেশে বুলডোজার দিয়ে মাদরাসা গুড়িয়ে দিল যোগী আদিত্যনাথের প্রশাসন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৯:২৬ এএম   (ভিজিট : ০)
ছবি : সংগৃহীত
উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে সরকারি জমি দখলমুক্ত করার অজুহাতে এক বিশাল উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে যোগী আদিত্যনাথের প্রশাসন। গত বুধবার (৩ জুন) দাসনার কাল্লুগাড়ি গ্রামে অবস্থিত ‘মাদরাসা জামিয়া অ্যারাবিয়া ইশাতুল ইসলাম’-এর ওপর চালানো হয় এই সাঁড়াশি বুলডোজার অভিযান। আদালতের নির্দেশ ও রাজস্ব দপ্তরের চূড়ান্ত নোটিশের পর প্রায় ছয়টি বুলডোজার নিয়ে মাদরাসার অবৈধভাবে নির্মিত বিশাল অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোর মধ্যে এটিকে প্রশাসনের অন্যতম বড় উচ্ছেদ অভিযান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অভিযানকে কেন্দ্র করে কাল্লুগাড়ি গ্রাম ও মাদরাসা প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে শত শত উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ও পিএসি (প্রাদেশিক আর্মড কনস্ট্যাবুলারি) জোয়ান মোতায়েন করা হয়। পুরো এলাকা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রেখে জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা সরাসরি এই উচ্ছেদ অভিযান তদারকি করেন।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গাজিয়াবাদের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ডিএম) রবীন্দ্র কুমার মান্দার বলেন, মাদরাসাটি প্রায় ১৪ থেকে ১৫ একর সরকারি জমি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছিল, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ থেকে ২৫ কোটি রুপি। এই প্রতিষ্ঠানটি আগেই সিলগালা করা হয়েছিল। উত্তরপ্রদেশ জমিদারি উচ্ছেদ ও ভূমি সংস্কার বিধিমালা, ১৯৫২-এর অধীনে উচ্ছেদ আদেশ বাস্তবায়নের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে বুধবার এই ভাঙচুর চালানো হয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, অবৈধ ভূমি ব্যবহারের ক্ষতিপূরণ হিসেবে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ রুপি জরিমানা আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উচ্ছেদ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার পর বিতর্কিত এই জমির দখল স্থানীয় ভূমি ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ডিএম রবীন্দ্র কুমার আরও জানান, আদালত এবং রাজস্ব রেকর্ড কঠোরভাবে যাচাই করেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মাদরাসার পরিচালক ফারুক পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

উচ্ছেদের পাশাপাশি এই মাদরাসার আয়ের উৎস ও তহবিলের সন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। প্রতিষ্ঠানটি কোনো বিদেশি সংস্থা বা আন্তর্জাতিক কোনো সংগঠন থেকে আর্থিক সহায়তা পেত কি-না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

অতিরিক্ত কমিশনার রাজকরণ নায়ার জানান, স্থানীয় লেখপালের (রাজস্ব কর্মকর্তা) লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে অভিযান সফল করতে পর্যাপ্ত পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

উল্লেখ্য, জেলাজুড়ে অবৈধ ও অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চলমান বিশেষ চিরুনি অভিযানের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এর ঠিক আগের দিনই খোদা এলাকায় নিয়মবহির্ভূতভাবে পরিচালনার অভিযোগে দুটি মাদরাসা সিলগালা করে তাদের পরিচালকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয় দেশটির প্রশাসন। 


/কহু


  বিষয়:   ভারত  ইসলাম  মুসলিম 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: