বান্দরবানের লামা উপজেলায় খাবারের খোঁজে লোকালয়ে এসে ব্যাপকভাবে ফসলের জমি, কলাবাগান ও সবজি খেত নষ্ট করেছে বন্য হাতিরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাহাড়ে খাদ্য সংকটের কারণে প্রায়ই লোকালয়ে নেমে আসে বন্য হাতিরা। এসময় তারা জমি-বাগান এমনকি বাড়িঘরেও তাণ্ডব চালায় বলে জানান স্থানীয়রা।
সবশেষ শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাত একটার দিকে লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খেদারবান এলাকায় বন থেকে নেমে আসে বন্যহাতির একটি পাল।
এ সময় হাতির দলটি কৃষক আনোয়ার হোসেনের বাগানে হামলা চালিয়ে প্রায় ২০০টি কলাগাছ খেয়ে ফেলে এবং একটি সবজি খেত সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করে দেয়। এতে কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ওই কৃষকের।
একই রাতে খেদারবান ছাড়াও ফাইতং ইউনিয়নের সুতাবাদী, নয়াপাড়া ও আশপাশের আরও তিনটি এলাকায় বন্যহাতির পাল তাণ্ডব চালায়। এতে কয়েকজন কৃষকের প্রায় অর্ধসহস্রাধিক কলাগাছ ও বিভিন্ন ধরনের ফসল নষ্ট হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আনোয়ার হোসেন জানান, হাতির ভয়ে আমরা রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারি না। প্রতিদিন রাত হলেই বন্যহাতির দল বাগান ও সবজি খেতে ঢুকে পড়ে। হাতিগুলো যেদিক দিয়ে যায়, তাদের পায়ের চাপে সবকিছু চূর্ণ হয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, শনিবার সকালে বাগানে গিয়ে দেখি হাতিগুলো তখনও সেখানে অবস্থান করছিল। পরে তাড়ানোর পর দেখি ২০০টিরও বেশি কলাগাছ খেয়ে ফেলেছে। এতে আমার লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক জসিম, ইকবাল, মুবিন, রাকিব, আব্দুর রাজ্জাক, হেলাল উদ্দিন ও শাহাজাহান জানান, একই রাতে বন্যহাতির পাল তাদের বাড়িঘর ও কৃষিজমিতে হামলা চালায়। এতে কলাবাগান ও সবজি খেত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এক রাতেই ৫০০টির বেশি কলাগাছ নষ্ট হয়েছে দাবি করেন তারা।
লামা বন বিভাগের আওতাধীন ডলুছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. হাবিব জানান, শনিবার রাতে ফাইতং ইউনিয়নের চারটি এলাকায় বন্যহাতির পাল হামলা চালিয়েছে। এতে কৃষকদের ফসল ও কলাবাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বন্যহাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্তদের নিকটস্থ বনবিভাগের আওতাধীন ডলুছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তার কাছে আবেদন করতে বলা হয়েছে। আবেদন নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বন্যহাতির আবাসস্থলে মানুষ বসতি গড়ে তোলায় তাদের খাদ্য ও চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়েছে। খাদ্য সংকটে হাতিরা লোকালয়ে চলে আসছে। এ বিষয়ে স্থানীয়দের সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ জানান তিনি।
এফআর