সময়টা যখন ক্যাসেট প্লেয়ারের ফিতায় বন্দি আবেগের, কিংবা রেডিওর নব ঘুরিয়ে কাঙ্ক্ষিত সুর সন্ধানের, তখন এক অনন্য কণ্ঠের নাম ছিল কবিতা কৃষ্ণমূর্তি। আজ ২৫ জানুয়ারি, কোকিলকণ্ঠী এই শিল্পীর জন্মদিন।
১৯৫৮ সালের এই দিনে দিল্লির এক তামিল পরিবারে থেকে যার যাত্রা শুরু হয়েছিল, তিনি হয়তো জানতেনই না- যে তার কণ্ঠ একদিন উপমহাদেশের কোটি মানুষের হৃদস্পন্দন হয়ে উঠবে।
শৈশবেই সংগীতের আঙিনায় পা রাখেন কবিতা। মাত্র আট বছর বয়সেই রবীন্দ্রসংগীতে স্বর্ণপদক জয় তার প্রতিভার আগাম বার্তা দিয়েছিল। মুম্বাইয়ের সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে পড়াকালীন রাণু মুখোপাধ্যায়ের চোখ তাকে খুঁজে নেয়। এরপর মান্না দের আশীর্বাদ আর লক্ষ্মীকান্ত-পেয়ারেলালের পরম মমতায় বলিউডের প্লেব্যাক জগতে শুরু হয় তার এক স্বর্ণালি অধ্যায়।
‘১৯৪২ আ লাভ স্টোরি’র স্নিগ্ধতা থেকে ‘খামোশি’র গভীরতা, কিংবা ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’ এর তীব্র আবেগ—কবিতার কণ্ঠ যেন প্রতিটি গানের আত্মায় প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেছে। শুধু হিন্দি নয়, বাংলাসহ অসংখ্য ভাষায় তিনি ছড়িয়ে দিয়েছেন তার মাধুর্য। এছাড়া আলমগীর আর জয়া পোদ্দার অভিনিত ‘আমিই সেই মেয়ে’ চলচ্চিত্রে ‘আগুনের দিন শেষ হেবে একদিন’ গানটি দুই বাংলায় সমান জনপ্রিয়তা পায় সেই সময়।
বর্তমান সময়ের অটোটিউন আর কৃত্রিম সুরের ভিড়ে কবিতা কৃষ্ণমূর্তি এক বিশুদ্ধ দীর্ঘশ্বাসের নাম। তিনি নিজেই আক্ষেপ করেন গানের কথার অভাব নিয়ে, তবু আশাবাদী হন নতুনদের পরীক্ষা-নিরীক্ষায়। ‘মানুষ তো খেলনা নয়’ গেয়ে তিনি যেমন সমাজকে বুঝিয়েছেন, তেমনি ‘প্রেম করেছি বেশ করেছি’ গেয়ে মাতিয়েছেন তারুণ্যকে।
ষাট পেরিয়েও তার কণ্ঠে আজও সেই একই তেজ, একই মায়া। কবিতা কৃষ্ণমূর্তি কেবল একজন গায়িকা নন; তিনি আমাদের ফেলে আসা সোনালি বিকেলের এক টুকরো নষ্টালজিয়া। শুভ জন্মদিন, সুরের রাণী !
সময়ের আলো/কেএইচও