চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে র্যাবের উপ-সহকারী পরিচালক (ডিএডি) মো. আব্দুল মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পলাতক আরও এক আসামিকে কক্সবাজার থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। তবে একই মামলার প্রধান আসামি মো. ইয়াসিনকে এখনো গ্রেফতার করা যায়নি। ইয়াসিন প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
র্যাব জানায়, হত্যা মামলার পলাতক আসামি আলীরাজ হাসান প্রকাশ সাগরকে (২৮) কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকার মৃত রহমত আলীর ছেলে।
র্যাব-৭ এর সহকারী পুলিশ সুপার (মিডিয়া) এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে অভিযান চালিয়ে কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকা থেকে আলীরাজ হাসানকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে সীতাকুণ্ড থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, গত ১৯ জানুয়ারি দুপুর সোয়া ৩টার দিকে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে চার থেকে পাঁচ শতাধিক দুর্বৃত্ত সংঘবদ্ধভাবে র্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলায় র্যাবের চার সদস্য গুরুতর আহত হন। থানা পুলিশের সহায়তায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল মোতালেবকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
এই মামলায় এর আগে বৃহস্পতিবার পুলিশ অভিযান চালিয়ে জাহিদ, ইউনুস ও আরিফ নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্যে জাহিদ ও ইউনুস এজাহারভুক্ত আসামি এবং আরিফ তদন্তে পাওয়া আসামি।
এ ছাড়া শুক্রবার বিকেলে জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে কালা বাচ্চু ওরফে কালু নামে আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে পিছু ধাওয়া করে তাকে আটক করা হয়।
আরআর