ঘুরে আসুন ‘পৃথিমপাশা নবাব বাড়ি’

তানভীর চৌধুরী, কমলগঞ্জ সংবাদদাতা

সারাদেশ

১৯৫১ সাল। ইরানের তৎকালীন শাসক দ্বিতীয় রেজা শাহ পাহলভি এসেছিলেন মৌলভীবাজারের পৃথিমপাশা জমিদার বাড়িতে। সে এক হুলুস্থুল কাণ্ড! জানা যায়,

2026-07-22T10:33:44+00:00
2026-07-22T10:33:44+00:00
 
  বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬,
৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
ঘুরে আসুন ‘পৃথিমপাশা নবাব বাড়ি’
তানভীর চৌধুরী, কমলগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশ: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩৩ এএম 
মৌলভীবাজারে পৃথিমপাশা নবাব বাড়ি। ছবি : সময়ের আলো
১৯৫১ সাল। ইরানের তৎকালীন শাসক দ্বিতীয় রেজা শাহ পাহলভি এসেছিলেন মৌলভীবাজারের পৃথিমপাশা জমিদার বাড়িতে। সে এক হুলুস্থুল কাণ্ড! জানা যায়, এ বাড়ির পূর্বপুরুষেরা ইরান থেকে এসেছিলেন বলেই দেশটির রাজপরিবারের সঙ্গে তাদের সুসম্পর্ক ছিল। শুধু ইরানের রাজাই নন, এ বাড়ির অতিথিশালায় আতিথেয়তা গ্রহণ করেছিলেন ত্রিপুরার মহারাজা রাধাকিশোর মাণিক্য বাহাদুরও। এছাড়া ইংরেজ আমলে বহু পদস্থ কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নানা প্রয়োজনে এ বাড়িতে অবস্থান করেছিলেন।

এসব কারণেই পৃথিমপাশা জমিদার বাড়ি নিয়ে তৈরি হয়েছে অনেক জনশ্রুতি—যার কিছু সত্য, আর কিছু কল্পনার মিশেলে ভরপুর। পৃথিবীতে এখন জমিদারি প্রথা না থাকলেও ইতিহাসে থেকে গেছে তাদের কথা, আর দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে তাদের স্মৃতিচিহ্ন। তেমনি এক ঐতিহাসিক জনপদ মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা, যেখানে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে শতবর্ষী পৃথিমপাশা জমিদার বাড়ি (যা স্থানীয়ভাবে ‘নবাব বাড়ি’ নামেও পরিচিত)। জমিদারি আমলের নানা স্মৃতি বহনকারী এই ঐতিহাসিক বাড়িটি বর্তমানে কুলাউড়ার অন্যতম প্রধান দর্শনীয় স্থান। পর্যটন মৌসুমে আপনিও চাইলে ঘুরে আসতে পারেন ইতিহাস ঘেরা এই স্থানটি থেকে।
যা দেখতে পাবেন

প্রায় ৩৫ একর জমির ওপর বিস্তৃত এই জমিদার বাড়িটি এখনও বেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। বাড়িটির চৌহদ্দিতে রয়েছে বিশাল দিঘি, দৃষ্টিনন্দন ঐতিহ্যবাহী মসজিদ, সুবিশাল বৈঠকখানা, ঐতিহাসিক ইমামবাড়া।


কারুকাজখচিত এ জমিদার পরিবারের সদস্যরা শিয়া মতাবলম্বী ছিলেন। নবাব আলী আমজাদ খান এ বাড়ির ঐতিহাসিক ইমামবাড়াটি প্রতিষ্ঠা করেন, যা কেন্দ্র করে প্রতিবছর মহররমের অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। এছাড়া বাড়ির মসজিদে এখনো প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

বিশাল এ বাড়িটি সাদা রঙের, যা দেখে হুট করে বোঝার উপায় নেই এর পেছনে লুকিয়ে আছে কয়েক শ বছরের ইতিহাস। ভবনের ভেতর দিঘির এক পাশে রয়েছে জমিদার পরিবারের সদস্যদের কবরস্থান। বর্তমানে নবাব আলী আমজাদ খানের উত্তরসূরিরাই ঐতিহাসিক এ বাড়িটি দেখাশোনা করছেন।

পৃথিমপাশা জমিদার বাড়ির ইতিহাস
১৪৯৯ সালে মোগল আমলে ইরান থেকে ধর্ম প্রচারের জন্য ভারতবর্ষে আসেন সাকি সালামত খান। ধর্ম প্রচারের উদ্দেশে তার ছেলে ইসমাইল খান লোদি আসেন পৃথিমপাশায় (তিনি পরবর্তীতে ওড়িশার গভর্নর হন)। 

ইসমাইল খানের ছেলে ছিলেন শামসুদ্দিন খান। শামসুদ্দিন খানের ছেলে রবি খানের নামানুসারে ১৭৫৬ সালে বিখ্যাত ‘রবিরবাজার’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। রবি খানের ছেলে মোহাম্মদ আলী খান ১৭৯২ সালে ইংরেজদের পক্ষে নওগাঁর কুকি বিদ্রোহ দমনে ভূমিকা রাখেন। ফলে ইংরেজ সরকার মোহাম্মদ আলী খানের ছেলে গাউস আলী খানকে ১,২০০ হাল (প্রায় ১৪,৪০০ বিঘা) জমি উপহার দেয়, যা পরিবারটিকে অত্যন্ত ধনী ও প্রভাবশালী করে তোলে।

গাউস আলী খানের ছেলে আলী আহমদ খান ছিলেন সিলেটের কাজি (বিচারক)। তার সময়ে জমিদারির রাজস্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পায় এবং তিনি ব্রিটিশ সরকারের গভীর আস্থাভাজন হন।

 নবাব আলী আহমদ খানের ছেলে নবাব আলী আমজাদ খান ছিলেন বৃহত্তর সিলেটের অত্যন্ত প্রভাবশালী জমিদার। মৌলভীবাজার ও সিলেটে শিক্ষা ও সমাজসেবায় তার অবদান অনন্য। সিলেটের বিখ্যাত সুরমা নদীর তীরে চাঁদনীঘাটের সিঁড়ি তাঁর অন্যতম সৃষ্টি।

১৮৭৪ সালে, যখন ঘড়ির তেমন প্রচলন ছিল না, তখন শহরের প্রবেশদ্বারে সুরমা নদীর তীরে একটি ঘড়িঘর নির্মাণ করেন আলী আহমদ খান। তিনি এটি ছেলে আলী আমজাদ খানের নামে নামকরণ করেন, যা আজ সিলেটের আইকন বা প্রতীক ‘আলী আমজাদের ঘড়ি’ নামে পরিচিত।

নবাব আলী আমজাদ খানের দুই ছেলে—আলী হায়দার খান ও আলী আজগর খান। আলী হায়দার খান ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন। পরবর্তীতে এই পরিবারের সন্তান নবাব আলী সারওয়ার খান, নবাব আলী আব্বাস খানসহ অনেকেই দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

যেভাবে যাবেন
ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি ট্রেনে চড়ে কুলাউড়া জংশন স্টেশনে নামতে হবে। সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা রিজার্ভ করে সরাসরি পৃথিমপাশা জমিদার বাড়িতে যাওয়া যায়। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে বাসে মৌলভীবাজার শহরে পৌঁছে লোকাল বাস বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে কুলাউড়ার পৃথিমপাশায় যাওয়া যাবে।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   ঘুরে আসুন  পৃথিমপাশা  নবাব বাড়ি  মৌলভীবাজার  সময়ের আলে  সিলেট 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: