বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার ফুল্লশ্রী গ্রামের নীরব পরিবেশে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মৃতিবিজড়িত এক সমাধিমন্দির, যা স্থানীয় মানুষের কাছে ‘আগৈলঝাড়ার তাজমহল’ নামে পরিচিত।
আজ থেকে প্রায় ৮২ বছর আগে, বাংলা ১৩৪৭ সালে জমিদার কামিনী গুপ্তের মেজ ছেলে ডা. শরৎ চন্দ্র গুপ্ত তার পূর্বপুরুষদের পারিবারিক ঐতিহ্যের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে নিজ বাড়ির পুকুরপাড়ে আগ্রার তাজমহলের আদলে একটি সমাধিমন্দির নির্মাণ করেন। ৭টি মূল স্তম্ভের ওপর নির্মিত এই বর্গাকার সমাধিমন্দিরের নাম রাখা হয় ‘কালীতারা নিত্যানন্দ স্মৃতি মন্দির’। নিপুণ নির্মাণশৈলী ও নান্দনিকতার কারণে স্থানীয় মানুষের কাছে এটি ‘তাজমহল’ নামেই পরিচিতি লাভ করে। বিশেষভাবে নির্মিত এ স্থাপনাটি যেদিক থেকেই দেখা হোক না কেন, তাজমহলের আদলের সৌন্দর্য ফুটে ওঠে।
তাজমহলটির গায়ে খোদাই করা রয়েছে নির্মাতার পরিচয় ও পারিবারিক স্মৃতিবিষয়ক বিভিন্ন তথ্য। এর পশ্চিম পাশে রয়েছে জ্যোতি কালী মোহন দাশগুপ্তের সমাধি এবং উত্তরে রয়েছে পিতৃসম সত্যভামা গুপ্তাসহ আরও ৩টি সমাধি। চারপাশে নির্মিত ৪টি মিনার স্থাপনাটির সৌন্দর্যকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
আগ্রার তাজমহলের অনুকরণে নির্মিত এই অনন্য স্থাপত্যটি একসময় ছিল এলাকার গর্ব। কিন্তু দীর্ঘদিনের অবহেলা, সংস্কারের অভাব এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় হওয়া ক্ষয়ক্ষতির কারণে আজ এটি ধ্বংসের পথে।
নির্মাণের পর থেকে এ স্থাপনাটির উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার হয়নি। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনারা এর নানা অলংকরণ ভেঙে ফেলে। এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্থাপত্যটির অবস্থা আরও নাজুক হয়ে উঠেছে। একসময় প্রতিবছর তাজমহলের পাশে বসত ঐতিহ্যবাহী মেলা। গত ৬ বছর ধরে সেই আয়োজনও বন্ধ রয়েছে। ফলে, এলাকার সাংস্কৃতিক প্রাণচাঞ্চল্য অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে।
জমিদার পরিবারের উত্তরসূরিরা বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন স্থানে বসবাস করছেন। তারা এই বাংলার মাটিতে থেকে গেলে হয়ত স্থাপনাটির এমন দুর্দশা হতো না। কিন্তু আমাদেরও তো কিছু দায়িত্ব থেকে যায়। এমন একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষা করা সকলের কর্তব্য। কেননা, ঐতিহ্য কেবলমাত্র অতীতের স্মৃতিই নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল ও জাতির পরিচয়।
সময়ের আলো/মহু