প্রেশার কুকারে রান্নার সময় তাতে তেজপাতা দিলে বিস্ফোরণ হতে পারে! শুনতে অবাক লাগলেও এটি সত্যি।
চলুন, এ ব্যাপারে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
প্রেশার কুকারে আস্ত তেজপাতা ব্যবহারের কারণে সত্যিই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এবং এটি সম্পূর্ণ বিজ্ঞানসম্মত বিষয়। রান্নার সময় তেজপাতা ভেসে ওপরে উঠে আসে এবং প্রেশার কুকারের ঢাকনার ছিদ্র (যেখান দিয়ে বাতাস বা স্টিম বের হয়) পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। এতে ভেতরের বাষ্প বের হতে না পেরে বিস্ফোরণ ঘটে।
আমরা জানি, প্রেশার কুকারে পানি ফুটে প্রচুর পরিমাণে বাষ্প তৈরি হয়। এই বাষ্প ভেতরের চাপ বাড়িয়ে দিয়ে খাবার দ্রুত সেদ্ধ করে। অতিরিক্ত এই বাষ্প বের হওয়ার জন্য ঢাকনার ওপরে একটি ছোট ছিদ্র থাকে, যার ওপর বসানো থাকে হুইসেল।
মনে করুন, রান্না করার সময় আপনি কুকারে তেজপাতা দিয়েছেন। এটি বেশ হালকা, চওড়া ও শক্ত গড়নের একটি উপাদান। পানিতে ফুটলে গলে যায় না বা অন্যান্য মসলার মতো মিশেও যায় না। সেক্ষেত্রে রান্নার সময় যখন তরল ফুটতে থাকে, তখন ভেতরের বুদ্বুদ এবং বাষ্পের ধাক্কায় তেজপাতা সহজেই ভেসে ওপরে চলে আসতে পারে। দুর্ভাগ্যবশত, পাতাটি যদি ঠিক ওই ছিদ্রের মুখে গিয়ে আটকে যায়, তাহলে ভেতরের বাষ্প আর বের হতে পারবে না। ফলে, চুলার তাপে ভেতরের চাপ জ্যামিতিক হারে বাড়তেই থাকবে।
আধুনিক প্রেশার কুকারগুলোয় সেফটি ভালভ নামে অতিরিক্ত সুরক্ষাব্যবস্থা থাকে, যা এমন পরিস্থিতিতে গলে গিয়ে বাষ্প বের করে দেয়। কিন্তু সেফটি ভালভটি যদি পুরোনো হয়, ঠিকমতো কাজ না করে, অথবা ভেতরের চাপ যদি এত দ্রুত বেড়ে যায়, যা সেফটি ভালভ সামলাতে ব্যর্থ হয়, তবে ভয়ংকর বিস্ফোরণ ঘটার সম্ভাবনা থাকে।
বিশ্বের নামীদামি প্রেশার কুকার প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোও এই সত্য স্বীকার করে। তাদের ব্যবহারিকায় স্পষ্ট করে সতর্কবাণীও দেওয়া থাকে। সেখানে বলা হয়, ফেনা তৈরি করে এমন খাবার কিংবা বড় পাতা রান্নার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কারণ, এসব ভেন্ট পাইপ ব্লক করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
তাহলে এক্ষেত্রে করণীয় কী? তেজপাতার ব্যবহার বন্ধ করে দেবো? উত্তর হলো, নাহ্। তেজপাতা ছাড়া কী আর মাংসের স্বাদ জমে? অবশ্যই তেজপাতা দেবেন, তবে কিছু সহজ সতর্কতা মেনে।
তেজপাতা সবসময় মাঝখান থেকে ছিঁড়ে বা ছোট টুকরা করে কুকারে দেবেন। তাহলে আর ছিদ্রের মুখে আটকে যাবে না। তেজপাতাটি কুকারের তরলের ওপর না ভাসিয়ে মাংস, আলু বা অন্যান্য ভারী উপাদানের নিচে চাপা দিয়ে দিন। ফেনা হয়, এমন কিছু রান্নার সময় এক চামচ তেল বা মাখন দিয়ে দিন। এতে ফেনা কম হবে এবং তেজপাতা ওপরে ভেসে ওঠার সুযোগ কম পাবে। আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখবেন, কখনোই প্রেসার কুকার দুই-তৃতীয়াংশের বেশি খাবার বা পানি দিয়ে ভর্তি করবেন না।
প্রেশার কুকারে তেজপাতা আটকে বিস্ফোরণের ঘটনা হয়ত প্রতিদিন ঘটে না, কিন্তু এর বৈজ্ঞানিক সম্ভাবনা শতভাগ সত্যি। একটু সতর্কতা আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে বড় কোনো বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।
সময়ের আলো/মহু