তীব্র গরমে বাড়ছে ‘হিট স্ট্রোক’ কতটা ঝুঁকিতে আছেন আপনি

সময়ের আলো ডেস্ক

ফিচার

তীব্র তাপদাহে মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় হিট স্ট্রোক বলা হয়।

2026-06-29T10:30:50+00:00
2026-06-29T11:13:55+00:00
 
  সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬,
১৫ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
ফিচার
তীব্র গরমে বাড়ছে ‘হিট স্ট্রোক’ কতটা ঝুঁকিতে আছেন আপনি
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ১০:৩০ এএম  আপডেট: ২৯.০৬.২০২৬ ১১:১৩ এএম
সংগৃহীত ছবি
তীব্র তাপদাহে মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় হিট স্ট্রোক বলা হয়। এটি একটি প্রাণঘাতী মেডিকেল ইমার্জেন্সি (জরুরি অবস্থা)। সাধারণত মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা যখন ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বা এর বেশি হয়ে যায় এবং শরীর নিজেকে ঠান্ডা করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, তখনই হিট স্ট্রোক ঘটে।

সময়মতো দ্রুত চিকিৎসাসেবা না পেলে এর কারণে মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড, লিভার ও কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে, এমনকি আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।

হিট স্ট্রোকের প্রধান লক্ষণ
শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হওয়া। ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক, লালচে ও গরম হয়ে যাওয়া (ঘাম হওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে)। তীব্র মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা এবং বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া। অতিরিক্ত পিপাসা লাগা এবং শরীর চরম দুর্বল হয়ে পড়া। দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস এবং হৃৎস্পন্দন (পালস রেট) বেড়ে যাওয়া। আচমকা আচরণে পরিবর্তন, প্রলাপ বকা, বিভ্রান্তি বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া। পেশিতে তীব্র টান লাগা বা ব্যথা হওয়া।


সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে যারা
শিশু এবং বৃদ্ধদের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কম থাকায় তারা দ্রুত আক্রান্ত হন। কড়া রোদে দীর্ঘক্ষণ কায়িক পরিশ্রম করা মানুষ (যেমন—দিনমজুর, কৃষক, রিকশাচালক, নির্মাণ শ্রমিক ও ট্রাফিক পুলিশ)। যারা হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা কিডনির সমস্যায় ভুগছেন। যারা নিয়মিত মূত্রবর্ধক, অ্যান্টিহিস্টামিন বা বিটা-ব্লকার জাতীয় ওষুধ খাচ্ছেন। অতিরিক্ত ওজনের অধিকারী ব্যক্তিরাও এই ঝুঁকিতে রয়েছেন।

আশেপাশের কারও হিট স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে নিচের পদক্ষেপগুলো নিন
রোগীকে দ্রুত রোদ থেকে সরিয়ে কোনো ঠান্ডা, ছায়াযুক্ত বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) স্থানে নিয়ে যান। গায়ের ভারী কাপড় খুলে দিন। ভেজা কাপড় দিয়ে সারা শরীর বারবার মুছে দিন এবং ফ্যান বা হাতপাখার বাতাসে শরীর ঠান্ডা করার চেষ্টা করুন। রোগীর মাথায়, ঘাড়ে, বগল ও কুচকিতে বরফ বা ঠান্ডা পানির প্যাক দিন। আক্রান্ত ব্যক্তি জ্ঞান না হারালে এবং স্বাভাবিকভাবে গিলতে পারলে তাকে অল্প অল্প করে বিশুদ্ধ পানি, খাবার স্যালাইন বা ডাবের পানি পান করান। অবস্থা গুরুতর হলে (যেমন—অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, খিঁচুনি বা তীব্র মানসিক বিভ্রান্তি দেখা দিলে) এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান।

প্রতিরোধের সহজ উপায়
খুব বেশি প্রয়োজন না হলে তীব্র রোদে (বিশেষ করে বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত) বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকুন। পিপাসা না লাগলেও সারাদিনে প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি, ডাবের পানি, লেবুর শরবত ও খাবার স্যালাইন পান করুন। গরমে আরাম পেতে হালকা রঙের, ঢিলেঢালা সুতি পোশাক পরিধান করুন। বাইরে বের হওয়ার সময় রোদ থেকে বাঁচতে অবশ্যই ছাতা, সানগ্লাস এবং টুপি বা ক্যাপ ব্যবহার করুন।

ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় যেমন—চা, কফি বা অতিরিক্ত মিষ্টি কোমল পানীয় এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো শরীরকে দ্রুত পানিশূন্য করে তোলে।

সময়ের আলো/জোই



  বিষয়:   গতীব্র গরম  হিট স্ট্রোক  ঝুঁকি 


Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: