কোনো দেশ ডাক পেয়েও খেলতে যায়নি বিশ্বকাপের মঞ্চে, কোনো দেশ আবার জাহাজ মিস করার কারণে খেলায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি, এ কথাগুলো নিশ্চয়ই এখনকার সময়ে দাঁড়িয়ে অবিশ্বাস্য মনে হবে। তবে, ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত হওয়া প্রথম বিশ্বকাপ এমন ঘটনারই সাক্ষী হয়েছিল। বিশ্বকাপে খেলার জন্য এখন যেমন দলগুলোকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়, বাছাইপর্ব খেলতে হয়, সেসময় এমন ঝক্কি ছিল না। কোনো বাছাইপর্ব ছাড়াই ফিফার সদস্য দেশগুলোকে সরাসরি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল তখন।
প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার কথা ছিল মিশরের। আফ্রিকা থেকে তারাই হতে পারত প্রথম বিশ্বকাপ অংশগ্রহণকারী দেশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের নাম আর অংশগ্রহণকারী দলের তালিকায় ওঠেনি।
ফুটবল ইতিহাসের বহুল প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, মিশরীয় দল উরুগুয়ে যাওয়ার জন্য রওনা হয়েছিল। তাদের ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালির জেনোয়া বন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল, যেখান থেকে তারা অন্য দলগুলোর সঙ্গে ‘এসএস কন্তে ভের্দে’ নামক বিখ্যাত জাহাজে উঠবে। কিন্তু মিশরের দলটি যখন ইতালির দিকে যাচ্ছিল, তখন ভূমধ্যসাগরে প্রচণ্ড ঝড়-তুফান শুরু হয়। ঝড়ের কারণে তাদের বহনকারী জাহাজটির যাত্রাপথ দীর্ঘ বিলম্বিত হয়। শেষমেষ তারা যখন জেনোয়া বন্দরে পৌঁছায়, ততক্ষণে উরুগুয়েগামী মূল জাহাজ নোঙর ছেড়ে চলে গেছে! তৎকালীন সময়ে যোগাযোগ মাধ্যম ও যাতায়াত ব্যবস্থা সীমিত থাকায় মিশরের পক্ষে অন্য কোনো বিকল্প উপায়ে সময়মতো উরুগুয়ে পৌঁছানো সম্ভব ছিল না। ফলে, তাদের বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন আর পূরণ হয় না। পরবর্তীতে, ফিফা এবং উরুগুয়ে কর্তৃপক্ষ তাদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিল।
অন্যদিকে, ১৯৩০ সালে ফিফার সদস্য হিসেবে জাপান আমন্ত্রণ পেয়েছিল। তবে তারা অংশগ্রহণে রাজি হয়নি। সে সময় জাপান থেকে উরুগুয়ে পৌঁছানো ছিল বিশাল ঝক্কির ব্যপার। কেননা, তখন সমুদ্রপথে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল সফরই ছিল একমাত্র ভরসা।
ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, এশিয়া থেকে উরুগুয়ে যাওয়ার দীর্ঘ যাত্রা, সময় ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণেই জাপান অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
জাপানের মতো একই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তৎকালীন সিয়াম বা শ্যামদেশ, যা বর্তমানে থাইল্যান্ড নামে পরিচিত।
ইতিহাসবিদদের মতে, দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা, ব্যয় এবং সে সময়ের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট, বিশেষ করে মহামন্দার প্রভাব- এ সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছিল। ফলে, এশিয়ার দুই সম্ভাব্য প্রতিনিধি জাপান ও সিয়াম নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেয়।
ফিফা প্রথম বিশ্বকাপের জন্য ১৬ দলের পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু উল্লিখিত কারণে শেষ পর্যন্ত ১৩টি দল উরুগুয়েতে খেলতে যায়।
সময়ের আলো/মহু