খাবারের ধরন দেশভেদে ভিন্ন হলেও কিছু খাবার রয়েছে, যা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং ম্যাশড ডটকমের তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ১০টি খাবার সম্পর্কে জানা যাক।
চাল
বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যশস্যগুলোর একটি হলো চাল। পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক মানুষ তাদের দৈনন্দিন খাদ্যচাহিদার বড় অংশ চাল থেকে পূরণ করে। বৈশ্বিক চাল উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশই হয় এশিয়ায়। চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম এ ক্ষেত্রে শীর্ষ উৎপাদক। সহজলভ্যতা, পুষ্টিগুণ এবং নানা ধরনের রান্নায় ব্যবহারের সুযোগ চালকে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় খাবারে পরিণত করেছে।
গম ও রুটি
বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষের প্রধান খাদ্যশস্য গম। এই গম থেকেই তৈরি হয় রুটি, যা প্রতিদিন প্রায় ৩২০ কোটি মানুষের খাদ্যতালিকায় থাকে। ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও ভারতীয় উপমহাদেশে রুটির জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি। পুষ্টিগুণের পাশাপাশি সহজ প্রস্তুতপ্রণালি ও বহুমুখী ব্যবহারের কারণে গম ও রুটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের প্রধান খাদ্য হিসেবে টিকে আছে।
পাস্তা
ইতালীয় খাবার হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমানে পাস্তা বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় খাদ্যে পরিণত হয়েছে। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে এর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। দ্রুত রান্না করা যায় এবং বিভিন্ন ধরনের উপকরণের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া যায় বলেই পাস্তার জনপ্রিয়তা এত বেশি। ইতিহাসবিদদের মতে, অষ্টম ও নবম শতাব্দীতে আরব ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে ইতালিতে ড্রাই পাস্তার প্রচলন শুরু হয়।
মুরগির মাংস
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্রাণিজ খাদ্যের মধ্যে মুরগির মাংস অন্যতম। কম চর্বি, উচ্চমানের প্রোটিন এবং তুলনামূলক কম দামের কারণে এটি প্রায় সব দেশেই জনপ্রিয়। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ব্রাজিল, ভারত ও মেক্সিকো মুরগির মাংস উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয়।
শূকরের মাংস
বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি খাওয়া মাংসের অন্যতম হলো শূকরের মাংস। বৈশ্বিক মাংস চাহিদার প্রায় ৩৬ শতাংশই এ খাতের দখলে। বিশেষ করে চীন এককভাবে সবচেয়ে বড় উৎপাদক ও ভোক্তা। তবে ধর্মীয় কারণে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে শূকরের মাংস খাওয়া হয় না।
গরুর মাংস
গরুর মাংস বৈশ্বিক মাংস উৎপাদনের প্রায় ২২ শতাংশ জুড়ে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, চীন ও আর্জেন্টিনা এ খাতে এগিয়ে। উচ্চমাত্রার প্রোটিন ও লৌহসমৃদ্ধ হওয়ায় গরুর মাংসের চাহিদা বিশ্বজুড়ে দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক বেশি হলেও ইউরোপ, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়।
ডিম
পুষ্টিগুণের কারণে ডিমকে অনেকেই ‘সম্পূর্ণ খাবার’ বলে থাকেন। প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ উপাদানে সমৃদ্ধ এই খাদ্য বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই নিয়মিত খাওয়া হয়। চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত ডিম উৎপাদনে শীর্ষে। নাশতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন রান্নায় ডিমের ব্যবহার এর জনপ্রিয়তাকে আরও বাড়িয়েছে।
দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার
দুধ, দই, মাখন ও পনিরের মতো দুগ্ধজাত খাবার পৃথিবীর বহু অঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যের অংশ। ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও পাকিস্তানে এসব খাবারের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। ক্যালসিয়াম ও বিভিন্ন ভিটামিনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হওয়ায় শিশু থেকে বয়স্ক- সব বয়সী মানুষের খাদ্যতালিকায় দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারের গুরুত্ব অপরিসীম।
মাছ
বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের প্রধান প্রাণিজ প্রোটিনের উৎস মাছ। এফএওর তথ্য অনুযায়ী, প্রাণিজ প্রোটিনের প্রায় ২০ শতাংশ আসে মাছ থেকে। বাংলাদেশ, জাপান, নরওয়ে ও পেরুর মতো দেশে মাছ রোজকার খাদ্যতালিকার অংশ। স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ হওয়ায় মাছের জনপ্রিয়তা যুগ যুগ ধরে অটুট রয়েছে।
ভুট্টা
ভুট্টা বিশ্বের অন্যতম বহুমুখী খাদ্যশস্য। সরাসরি খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি এটি পশুখাদ্য, তেল, কর্নফ্লেক্স এবং নানা প্রক্রিয়াজাত খাদ্য তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়। যুক্তরাষ্ট্র একাই বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ ভুট্টা উৎপাদন করে। চীন, ব্রাজিল, মেক্সিকো ও আর্জেন্টিনাও বড় উৎপাদক। আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বহু মানুষের প্রধান খাদ্য হওয়ায় ভুট্টা বৈশ্বিক খাদ্যব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
সময়ের আলো/মহু