বিশ্বকাপে খেলছে ক্লিওপেট্রার দেশ মিসর, জেনে নিন প্রাচীন মিসরীয়দের রূপচর্চার ইতিহাস

সময়ের আলো ডেস্ক

ফিচার

বিশ্বকাপের আসরে আবারও আলোচনায় এসেছে উত্তর আফ্রিকার ঐতিহাসিক দেশ মিসর। প্রাচীন সভ্যতার অন্যতম কেন্দ্র এই দেশটিকে মনে করা হয় সৌন্দর্যচর্চা

2026-06-27T04:32:35+00:00
2026-06-27T04:32:35+00:00
 
  শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬,
১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
ফিচার
বিশ্বকাপে খেলছে ক্লিওপেট্রার দেশ মিসর, জেনে নিন প্রাচীন মিসরীয়দের রূপচর্চার ইতিহাস
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৪:৩২ এএম 
সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপের আসরে আবারও আলোচনায় এসেছে উত্তর আফ্রিকার ঐতিহাসিক দেশ মিসর। প্রাচীন সভ্যতার অন্যতম কেন্দ্র এই দেশটিকে মনে করা হয় সৌন্দর্যচর্চা ও স্বাস্থ্যসচেতনতার এক প্রাচীন জনপদ হিসেবে। কিংবদন্তি রানি ক্লিওপেট্রার নাম যেমন রূপ-রসের প্রতীক, তেমনি প্রাচীন মিসরীয় সমাজজুড়েই ছিল ব্যক্তিগত পরিচর্যার এক সমৃদ্ধ সংস্কৃতি।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, মিসরের রাজপরিবার থেকে শুরু করে সাধারণ শ্রমিক, সৈনিক, কৃষক এমনকি দাসরাও নিজেদের শারীরিক পরিচর্যায় বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। ত্বক, চুল ও স্বাস্থ্য ভালো রাখতে তারা প্রাকৃতিক উপাদানভিত্তিক নানা পদ্ধতি অনুসরণ করতেন।

পুষ্টিকর খাদ্য থেকেই সৌন্দর্যের শুরু
প্রাচীন মিসরীয়দের বিশ্বাস ছিল, শরীরের সৌন্দর্য নির্ভর করে খাদ্যাভ্যাসের ওপর। নীল নদের উর্বর পলিতে উৎপন্ন শস্য ও ফলমূল তাদের দৈনন্দিন খাদ্যের অংশ ছিল। ডালিম, খেজুর, আঙুর, শসা, রসুন ও তরমুজের মতো খাবার ছিল পুষ্টির প্রধান উৎস, যা ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করত।

প্রাকৃতিক স্কিন কেয়ারের সূচনা
আজকের আধুনিক এক্সফোলিয়েশনের ধারণার শিকড় খুঁজে পাওয়া যায় প্রাচীন মিসরেই। তারা ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে পাথরের ঝামা ব্যবহার করতেন। পাশাপাশি অ্যালোভেরার রস ও সোডিয়াম কার্বোনেট মিশিয়ে তৈরি করা হতো প্রাকৃতিক স্ক্রাব, যা ত্বক পরিষ্কার ও উজ্জ্বল রাখতে সহায়তা করত।
আরও পড়ুন

দেহ পরিচর্যায় অগ্রগামী ছিল মিসরীয় সমাজ
গরম মরুভূমির আবহাওয়ার কারণে শরীর পরিষ্কার রাখা তাদের জন্য ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই অবাঞ্ছিত লোম অপসারণ ছিল সাধারণ অভ্যাস। মধুর ঘন মিশ্রণ ব্যবহার করে ‘সুগারিং’ নামের একটি প্রাচীন পদ্ধতিতে লোম অপসারণ করতেন তারা, যা আধুনিক ওয়াক্সিংয়ের আদিরূপ হিসেবে বিবেচিত।

প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার
অ্যালোভেরা ছিল মিসরীয়দের কাছে এক ধরনের ‘অমরত্বের উদ্ভিদ’। এটি ত্বক আর্দ্র রাখা, প্রদাহ কমানো এবং রোদে পোড়া নিরাময়ে ব্যবহৃত হতো। একইভাবে অ্যাভোকাডো ব্যবহার করা হতো চোখের নিচের ফোলা ভাব ও ক্লান্তি দূর করতে।

প্রাচীন সমাধি ও প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কালোজিরার তেলও মিসরে বহুল ব্যবহৃত ছিল। এটি ত্বকের র‍্যাশ, ব্রণ ও চুলকানি উপশমে কার্যকর বলে বিশ্বাস করা হতো।

দুধ-মধুর স্নান ও রূপচর্চা
ইতিহাসে ক্লিওপেট্রা ও নেফারতিতির দুধ-মধুর স্নানের গল্প বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ধারণা করা হয়, এই মিশ্রণ ত্বককে মসৃণ ও কোমল রাখতে ব্যবহৃত হতো। আধুনিক সময়ে এর বিকল্প হিসেবে নারকেল দুধ ও ল্যাকটিক অ্যাসিডযুক্ত স্কিন কেয়ার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।

এএডি/
  বিষয়:   বিশ্বকাপ  ক্লিওপেট্রা  দেশ  মিসর  প্রাচীন  মিসর  রূপচর্চা  ইতিহাস 


Advertisement
Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: