সুস্থ থাকতে ও বড় কোনো রোগের ঝুঁকি এড়াতে তরুণ থেকে বয়স্ক সবারই কিছু টেস্ট বছরে একবার হলেও করানো উচিত। এসব টেস্টের ফলে জটিল রোগের সূত্রপাত হওয়ার আগে বা শুরু থেকেই অবগত থাকা যায়। ফলে, প্রতিরোধ বা সহজে নির্মূল ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
‘সিবিসি’ বা কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট
প্রতি বছর একবার সিবিসি টেস্ট করানো ভীষণ জরুরি। রক্তে লোহিত কণিকা, শ্বেত কণিকা এবং প্লাটিলেটের পরিমাণ নির্ধারণ করতে এই টেস্ট করানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। কোনো ব্যক্তি অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত হলে বা রক্তে সংক্রমণ থাকলে সিবিসি পরীক্ষার মাধ্যমে তা সহজেই জানা যায়। রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষমতা কেমন, তা জানতেও এই পরীক্ষা করাতে হয়।
লিপিড প্রোফাইল
রক্তে খারাপ এবং ভালো- দুরকম কোলেস্টেরলই থাকে। অতিরিক্ত খাওয়াদাওয়া, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, মানসিক চাপ- রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়িয়ে তোলে, যা হার্টের জন্য মোটেই ভালো নয়। তাই প্রতিবছর রক্তে লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া ভালো।
ব্লাড গ্লুকোজ
রক্তে শর্করা চুপিসারে বাড়তে থাকে, তা হঠাৎ ধরা পড়ে না। তাই প্রতি বছর গ্লুকোজ় ফাস্টিং এবং এইচবিএ১সি রক্ত পরীক্ষা করিয়ে রাখতেই হবে। অনেকে ভাবেন, কম বয়সীদের রক্তে শর্করার সমস্যা নেই। কিন্তু, এটা ভুল ধারণা। যেকোনও বয়সেই রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।
থাইরয়েড ফাংশন টেস্ট
শারীরবৃত্তীয় নানা কাজে থাইরয়েড হরমোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিপাকহার নিয়ন্ত্রণ, শরীরের স্থিতিশীল তাপমাত্রা বজায় রাখা, মানুষের বৃদ্ধি ও বিকাশ ত্বরান্বিত করা থেকে শুরু করে হৃদযন্ত্রের সুরক্ষায়ও থাইরয়েড কাজ করে। অতিরিক্ত থাইরয়েড বা একেবারে কম- দুটোই এ ক্ষেত্রে সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে ওজনে পরিবর্তন, মেজাজ বিগড়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া, এ হরমোনে সমস্যা হলে শরীরও ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। তাই থাইরয়েড ফাংশন টেস্ট করা অবশ্যই জরুরি।
ইজিএফআর টেস্ট
কিডনির অসুখ সহসা ধরা পড়ে না। অনেক ক্ষেত্রেই কিডনি ৮০-৯০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আমরা বুঝতে পারি। ওজন কমে যাওয়া, খিদে না পাওয়া, ক্লান্তি, গোড়ালি ফোলা, প্রস্রাবে রক্ত, অনিদ্রা, পেশিতে খিঁচুনি এবং মাথাব্যথার মতো লক্ষণগুলোকে একদমই অবহেলা করা উচিত নয়। ডায়াবেটিস রোগীদের এক্ষেত্রে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। কিডনির কার্যকারিতা ঠিকঠাক আছে কিনা, তা যাচাই করার জন্য বছরে একবার ইজিএফআর টেস্ট করানো অত্যাবশ্যক।
সময়ের আলো/মহু