ক্যালেন্ডারের পাতায় এখন জুন মাস। এটি এমন এক সময়, যখন সকালে রোদ, তো বিকেলে বৃষ্টি। রাতে বৃষ্টির সঙ্গে কাঁথা গায়ে দেওয়ার মতো শীতল আবেশ। ভরপুর বৃষ্টিতে শহরের রাস্তাঘাটে তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। কাজের প্রয়োজনে বাইরে বের হলে কখনও বৃষ্টিতে ভিজতে হয়, কখনওবা জলাবদ্ধতার পানিতে ভিজে যাতায়াত করতে হয়। আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিতে বাড়ছে সর্দি, কাশি, গলাব্যথা কিংবা জ্বরের মতো সমস্যা।
বৃষ্টির পানি গায়ে পড়লেই যে আপনি অসুস্থ হয়ে যাবেন, তা নয়। কিন্তু বৃষ্টিতে ভিজে যদি শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমে যায়, তাহলে সাধারণত রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন বাতাসে থাকা ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া শরীরে সহজেই সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টির ঠান্ডা পানি শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় হঠাৎ পরিবর্তন আনে। তাই ভেজা কাপড় দীর্ঘ সময় গায়ে রাখলে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এতে শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি সংক্রমণও বাড়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুমে পানিশূন্যতার কারণে সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। পর্যাপ্ত পানির অভাবে নাকের ভেতরের ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যায়, ফলে জীবাণু সহজে শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
এ ছাড়া, তাপমাত্রার আকস্মিক পরিবর্তনেও মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। বাইরের কড়া রোদ থেকে ঘরে বা অফিসে হঠাৎ এসির ভেতরে প্রবেশ করা বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে অনেকক্ষণ থেকে বাইরে প্রচণ্ড গরমে বের হলে শরীরের ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্থ হয়। অনেকে আবার তৃষ্ণা মেটাতে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি, কোমল পানীয় বা আইসক্রিম খেয়ে থাকেন। এর ফলে অনেকের সর্দি-কাশি দেখা দিতে পারে।
এ ছাড়া, দীর্ঘসময় যদি শরীর ঘামে ভেজা থাকে তাহলে ঠান্ডা, কাশি হতে পারে। আবার, ধুলাবালির সংস্পর্শে আসলে হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধ হওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
আবহাওয়ার এই খামখেয়ালি মৌসুমে সুস্থ থাকতে চিকিৎসকরা কিছু সহজ নিয়ম মেনে চলতে বলেন। যেমন-
- বৃষ্টি বা ঘামে ভিজে গেলে দ্রুত শরীর মুছে শুকনো কাপড় পরতে হবে।
- পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। এ ছাড়া মৌসুমি ফলমূল ও টাটকা শাকসবজি খেতে হবে।
- পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে।
- ঘরের বাইরে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।
- হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা ভালো। হাত পরিষ্কার না করে চোখ, নাক বা মুখ স্পর্শ করা যাবে না।
সবসময় হয়ত আমরা সব নিয়ম মেনে চলতে পারি না কিংবা মেনে চলার পরও কখনও কখনও অসুস্থ হয়ে পড়ি। সেক্ষেত্রে করণীয় হলো-
- পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে।
- পানি ও অন্যান্য তরল খাবার বেশি পরিমাণে খেতে হবে।
- গলাব্যথা অনুভূত হলে কুসুম গরম পানি পান করলে আরাম পাওয়া যাবে।
- নাক বন্ধ হলে গরম পানির ভাপ নিতে হবে।
- থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে আদা ও মধুর মিশ্রণ খেলে ভালো উপকারে আসতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টির মৌসুমে সামান্য ঠান্ডা, জ্বর হতেই পারে। এটা নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। সচেতন থাকলে তা বেশি অস্বস্তিকর হবে না। তবে বেশিদিন অসুস্থ বোধ করলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
সময়ের আলো/মহু