ক্যান্সারের জন্য দায়ী যে ৭ খাবার

সময়ের আলো ডেস্ক

ফিচার

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ক্যান্সার শুধু বাড়ছেই। নানান কারণে এই মরণব্যাধি বাসা বাঁধতে পারে শরীরে। গবেষণা বলছে, ভুলভাল খাদ্যাভ্যাস ও

2026-08-15T16:10:50+00:00
2026-08-15T16:12:42+00:00
 
  শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬,
৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
ফিচার
ক্যান্সারের জন্য দায়ী যে ৭ খাবার
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৪:১০ পিএম  আপডেট: ১৫.০৮.২০২৬ ৪:১২ পিএম
ভুলভাল খাদ্যাভ্যাস ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম কারণ। ছবি : এআই
সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ক্যান্সার শুধু বাড়ছেই। নানান কারণে এই মরণব্যাধি বাসা বাঁধতে পারে শরীরে। গবেষণা বলছে, ভুলভাল খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক পরিশ্রমের অভাব ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম কারণ। তবে প্রত্যাশার কথা হলো, বিষয়টি আপনার নিয়ন্ত্রণে।

‘ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার রিসার্চ ফান্ডের’ মতে, ক্যান্সারের জন্য দায়ী কিছু খাবার হলো-

প্রক্রিয়াজাত চিনি
প্রক্রিয়াজাত চিনি শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়ানোর পাশাপাশি ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিতে সহায়ক। মেডিসিন বিভাগে নোবেল পুরস্কার প্রাপ্ত জার্মান চিকিৎসক ওটো ওয়ারবার্গ ১৯৩১ সালে প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন যে, টিউমার ও ক্যান্সার কোষ বেড়ে ওঠা উচ্চ মাত্রায় ‘ফ্রুক্টোজ’যুক্ত চিনির উপর নির্ভরশীল। তাই প্রক্রিয়াজাত চিনির পরিবর্তে মধু, গুড়, ম্যাপল সিরাপ ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন।

প্রক্রিয়াজাত মাংস
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইউনিভার্সিটি অফ হাওয়াইয়ের’ করা এক গবেষণা অনুযায়ী, প্রক্রিয়াজাত মাংস অগ্ন্যাশয় ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় প্রায় ৬৭ শতাংশ। এতে থাকে উচ্চমাত্রায় রাসায়নিক পদার্থ ও খাদ্য সংরক্ষক। আরও থাকে নাইট্রেট, যা এর স্বাদ বাড়ায়। ‘কারসিনোজেন’ ধরনের বিষ হিসেবে এর পরিচিত আছে।


কাঠের ধোঁয়ার প্রস্তুতকৃত মাংস খাওয়াও স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী নয়। কারণ, এই ধরনের খাবার তৈরির সময় মাংস ধোঁয়া থেকে সৃষ্ট বিষাক্ত পদার্থ শোষণ করে নেয়। তাই খেতে হবে চর্বিহীন মাংস অথবা ঘরেই রাঁধতে হবে।

চাষ করা মাছ
মাছ চাষের ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও পরজীবীর আক্রমণ থেকে বাঁচতে ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন জীবণুরোধী ওষুধ, কীটনাশক ও অন্যান্য ‘কারসিনোজেনিক’ রাসায়নিক উপাদান। প্রাকৃতিক মাছের তুলনায় চাষ করা মাছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণও কম থাকে। তাই যতটা সম্ভব নদী বা সমুদ্রের মাছ খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। 

হাইড্রোজেনেটেড অয়েল বা ট্রান্স ফ্যাট
মানুষের তৈরি এই উপাদান রাসায়নিক গঠন পরিবর্তন করে দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য উপযুক্ত করা হয়। এছাড়া, গন্ধ ঢাকতে ও স্বাদ বাড়াতেও ব্যবহার করা হয় এই রাসায়নিক পদার্থ।

গবেষকরা প্রমাণ করেছেন যে, বাণিজ্যিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করা খাবারে থাকা ‘হাইড্রোজেনেটেড’ ও আংশিক ‘হাইড্রোজেনেটেড’ উদ্ভিজ্জ তেল স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় দ্বিগুণ। তাই এর পরিবর্তে ব্যবহার করতে হবে ‘এক্সট্রা-ভার্জিন অলিভ অয়েল’, ‘এক্সট্রা-ভার্জিন কোকোনাট অয়েল’ কিংবা ‘পাম অয়েল’।


আলুর চিপস
‘হাইড্রোজেনেটেড ভেজিটেবল অয়েলে’ ভেজে তৈরি করা হয় এই চিপস, সঙ্গে থাকে অতিরিক্ত লবণ।

‘নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিনে’ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, প্রতিদিন মাত্র ১ আউন্স চিপস খেলেই বছরে গড়ে প্রায় দুই পাউন্ড ওজন বাড়তে পারে। পাশাপাশি এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ট্রান্স-ফ্যাটও থাকে, যা কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়। অন্যদিকে, লবণে থাকা সোডিয়াম বাড়ায় রক্তচাপ। আলুর চিপসকে মচমচে বানানোর জন্য উচ্চ তাপমাত্রায় ভাজা হয়। এতে ‘অ্যাক্রিলামাইড’ নামক ‘কারসিনোজেন’ ধরনের বিষাক্ত উপাদান তৈরি হয়। 

মাইক্রোওয়েভ পপকর্ন
বেশিরভাগ মাইক্রোওয়েভ পপকর্নের প্যাকেটের গায়ে থাকে ‘পারফ্লুরোঅক্টানোইক’ অ্যাসিড নামক রাসায়নিক উপাদান। যা স্তন, বৃক্ক, মূত্রথলি, কোলোরেক্টাল, প্রোস্টেট, ফুসফুস, থাইরয়েড, লিউকেমিয়া এবং লিম্ফোমা ক্যান্সারের জন্য দায়ী।

পরিশোধিত সাদা আটা
আটা পরিশোধনের সময় এর প্রায় সকল পুষ্টিগুণই নষ্ট হয়ে যায়। পরে একে ক্লোরিন গ্যাসের সাহায্যে ব্লিচ করা হয় আকর্ষণীয় করার জন্য। এই আটার গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের মাত্রাও অনেক বেশি। অর্থাৎ, শরীরে পুষ্টি সরবরাহ ছাড়াই ইনসুলিনের মাত্রা হুট করে বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই পরিশোধিত সাদা আটার পরিবর্তে গম, কাঠবাদাম বা বার্লির আটা খাওয়া ভালো।

সময়ের আলো/মহু


  বিষয়:   ক্যান্সার  দায়ী  খাবার  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: