দুপুরে খাওয়ার পর একটু চোখ বুজে নেওয়ার অভ্যাস অনেকেরই। কেউ বলেন, এতে শরীর-মন সতেজ হয়, আবার কেউ মনে করেন, বিকেলের ঘুম রাতের ঘুম নষ্ট করে। আসলে বিকেলে ঘুমানো ভালো না খারাপ -তা নির্ভর করে ঘুমের সময়, দৈর্ঘ্য এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আবেদ হোসেন খানের মতে, স্বল্প সময়ের দিনের ঘুম স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।
২০২১ সালে ১১টি গবেষণা নিয়ে প্রকাশিত একটি রিভিউতে দেখা যায়, ২০ থেকে ৭৩ বছর বয়সীদের স্বল্প সময়ের দিনের ঘুম কগনিটিভ ফাংশন, স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে পারে। ঘুমের এই উপকারিতা ঘুম থেকে ওঠার পর অন্তত দুঘণ্টা পর্যন্ত থাকতে পারে। বিশেষ করে রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে দিনের ছোট একটি ন্যাপ শেখা, চিন্তা ও কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়ক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০-৩০ মিনিটের পাওয়ার ন্যাপ অধিকাংশ মানুষের জন্য উপকারী। এতে মেজাজ, মনোযোগ, প্রতিক্রিয়ার সময়, স্বল্পমেয়াদি স্মৃতি ও একাগ্রতা বাড়তে পারে।
সময় একেবারেই কম থাকলে ৫-১০ মিনিটের ন্যাপও ঘুমভাব কমাতে এবং স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। ব্যস্ত কর্মজীবীদের জন্য ১৫ মিনিটের ছোট ঘুমও উপকারী।
অন্যদিকে, প্রয়োজন অনুযায়ী ৬০ মিনিটের ঘুম শরীর ও মস্তিষ্ককে আরও গভীরভাবে বিশ্রাম দিতে পারে। ৯০ মিনিটের ন্যাপকে পূর্ণ ন্যাপ হিসেবে ধরা হয়, যা শারীরিক কর্মক্ষমতা ও মানসিক অবস্থার উন্নতিতে সহায়তা করতে পারে।
ন্যাপ নেওয়ার উপযুক্ত সময় সাধারণত ঘুম থেকে ওঠার ৬-৭ ঘণ্টা পর, অর্থাৎ দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে।
তবে, দীর্ঘ সময়ের ঘুমে সমস্যা হতে পারে। বিকেলে দেড় ঘণ্টার বেশি ঘুমালে রাতের ঘুমের স্বাভাবিক ঘুমের ছন্দ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অতিরিক্ত ঘুম ও রাত জেগে থাকার অভ্যাস স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদ্রোগের মতো বিভিন্ন সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত।
আরও একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি- খাওয়ার পরপরই ঘুমাতে যাওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে পেট ভরে বা ভারী খাবার খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়লে পাকস্থলীর অ্যাসিড ওপরে উঠে বুক ও গলায় জ্বালাপোড়া, অস্বস্তি বা অ্যাসিড রিফ্লাক্স হতে পারে। তাই দুপুরে অতিরিক্ত না খেয়ে খাবারের পর অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে শোয়া উচিত।
সময়ের আলো/মহু