ডিম আমাদের প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় থাকা সবচেয়ে সহজলভ্য ও পুষ্টিকর খাবারগুলোর একটি। সকালের নাশতা থেকে শুরু করে দুপুর কিংবা রাতের খাবারে বিভিন্নভাবে ডিম খাওয়া যায়। তুলনামূলক কম খরচে ভালো মানের প্রোটিনসহ বেশ কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়ায়, এ খাবারটির চাহিদা অনেক। তবে, অনেকেই ভাবেন প্রতিদিন ডিম খেলে কি কোলেস্টেরল বেড়ে যায়? নাকি নিয়মিত ডিম খাওয়াটা উপকারী?
হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠি ডিমকে উচ্চমানের ‘সম্পূর্ণ প্রোটিনের’ অন্যতম ভালো উৎস হিসেবে উল্লেখ করে জানান, এতে প্রোটিনের পাশাপাশি ভিটামিন, মিনারেল, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং কোলিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে। একটি ডিমের কুসুমে প্রায় ২.৫ গ্রাম এবং সাদা অংশে প্রায় ৪ গ্রাম প্রোটিন থাকে।
তার মতে, নিয়মিত ডিম খাওয়ার ফলে শরীরে বেশ কিছু ইতিবাচক প্রভাব দেখা দিতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি টানা ২ সপ্তাহ ডিম খাওয়ার সম্ভাব্য কয়েকটি উপকারের কথা তুলে ধরেছেন।
চোখের স্বাস্থ্য সুরক্ষা
বয়স বাড়ার সঙ্গে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। ডিমে থাকা লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন চোখের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দুটি পুষ্টি উপাদান।
ডা. শেঠির মতে, নিয়মিত ডিম খাওয়ার মাধ্যমে এসব উপাদান পাওয়া যায়, যা চোখকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে বয়সজনিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন ও ছানির ঝুঁকি কমাতে এগুলো ভূমিকা রাখতে পারে।
মস্তিষ্ক ও লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রম
ডিমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান হলো কোলিন। মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও স্মৃতিশক্তির সঙ্গে এই পুষ্টি উপাদানটির গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। শুধু মস্তিষ্ক নয়, লিভারের জন্যও কোলিন গুরুত্বপূর্ণ। এটি লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। বর্তমান সময়ে অনিয়মিত জীবনযাপন ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা বাড়ছে। তাই সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে পরিমিত ডিম রাখা উপকারী হতে পারে।
ভালো কোলেস্টেরল বৃদ্ধি
ডিম নিয়ে সবচেয়ে বেশি যে উদ্বেগ দেখা যায়, তা হলো কোলেস্টেরল। তবে ডা. শেঠির বক্তব্য অনুযায়ী, ডিম খাওয়া শরীরে ‘ভালো’ কোলেস্টেরল বা এইচডিএল বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।
এ ছাড়া সকালের খাবারে ডিম রাখলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি থাকতে পারে। ডিমের প্রোটিন তৃপ্তি বাড়াতে সহায়তা করায় ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হতে পারে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রাও তুলনামূলক স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হতে পারে।
প্রতিদিন কতটি ডিম?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন ১টি ডিম খাওয়া সাধারণত নিরাপদ। তবে, সবার খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক অবস্থা এক নয়। যাদের হৃদরোগ, উচ্চ কোলেস্টেরল বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, তাদের ডিম খাওয়ার পরিমাণ চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করা উচিত।
যারা ডিম খান না, তাদের জন্য বিকল্প হিসেবে টোফু বেছে নেওয়া যেতে পারে। ডা. শেঠির মতে, টোফুতেও ভালো মানের উদ্ভিজ্জ প্রোটিন রয়েছে, যা দৈনন্দিন প্রোটিনের চাহিদা পূরণে সহায়তা করতে পারে।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
সময়ের আলো/মহু