কাদায় হাঁটলে শরীর ও মনে যেসব ইতিবাচক পরিবর্তন আসে

সময়ের আলো ডেস্ক

ফিচার

বর্ষা মৌসুম এলেই প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। আর সেই বৃষ্টির কারণে পথঘাট কর্দমাক্ত হয়ে যায়। অনেকের কাছে কাদা বিরক্তির কারণ, বিশেষ

2026-06-29T19:30:09+00:00
2026-06-29T19:30:50+00:00
 
  সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬,
১৫ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
ফিচার
আন্তর্জাতিক কাদা দিবস
কাদায় হাঁটলে শরীর ও মনে যেসব ইতিবাচক পরিবর্তন আসে
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ৭:৩০ পিএম  আপডেট: ২৯.০৬.২০২৬ ৭:৩০ পিএম
শিশুদের কাদা নিয়ে খেলতে উৎসাহিত করতে ২৯ জুন বিশ্বজুড়ে পালিত হয় আন্তর্জাতিক কাদা দিবস। ছবি : সংগৃহীত
বর্ষা মৌসুম এলেই প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। আর সেই বৃষ্টির কারণে পথঘাট কর্দমাক্ত হয়ে যায়। অনেকের কাছে কাদা বিরক্তির কারণ, বিশেষ করে শহরে বসবাসরত মানুষদের। কিন্তু কাদায় হাঁটারও যে অনেক উপকার আছে, তা খুব কম মানুষই জানেন।

প্রতি বছর ২৯ জুন বিশ্বজুড়ে পালিত হয় আন্তর্জাতিক কাদা দিবস। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সংযোগ বাড়ানো, বিশেষ করে শিশুদের কাদা নিয়ে খেলতে উৎসাহিত করাই এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিষ্কার ও নিরাপদ পরিবেশের মাটি বা কাদার সংস্পর্শে আসা মানুষের মানসিক সুস্থতা, শরীরচর্চা এবং প্রকৃতির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে।

চলুন জেনে নিই, কাদায় হাঁটলে আমাদের শরীর ও মনের কী কী ইতিবাচক পরিবর্তন হয়।

মানসিক চাপ কমতে পারে
কাদা বা মাটিতে খালি পায়ে হাঁটাকে অনেকেই ‘গ্রাউন্ডিং’ বা ‘আর্থিং’ নামে চেনেন। গবেষকদের মতে, মাটির সরাসরি সংস্পর্শ শরীরকে শিথিল করতে, মানসিক চাপ কমাতে এবং ভালো ঘুম হতে সাহায্য করতে পারে। এ ছাড়া, প্রকৃতির মধ্যে সময় কাটালে উদ্বেগ ও মানসিক ক্লান্তিও কমে। গবেষকরা মনে করেন, এ বিষয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।

পায়ের পেশির ব্যায়াম হয়
অনেক ফিজিওথেরাপিস্টও অসমতল প্রাকৃতিক ভূমিতে হাঁটার উপকারিতার কথা বলে থাকেন। সমতল পথে হাঁটার বেলায় তেমন ঝক্কি পোহাতে হয় না। কিন্তু, কাদার ভেতর হাঁটা কিছুটা কঠিন ব্যাপার। এক্ষেত্রে পায়ের ছোট ছোট পেশি, গোড়ালি এবং ভারসাম্য রক্ষাকারী পেশিগুলো বেশি কাজ করে। এতে শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতা বাড়তে পারে। 


মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে
কাদায় হাঁটার সময় বিপদ এড়াতে প্রতিটি পদক্ষেপ সাবধানে ফেলতে হয়। এতে স্বাভাবিকভাবেই মনোযোগ বেড়ে যায়। মনোবিজ্ঞানীরা একে 'মাইন্ডফুলনেস' চর্চার একটি সহজ উপায় হিসেবে দেখেন। 

জীববৈচিত্র্যের সংস্পর্শে আসা
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাকৃতিক পরিবেশে সময় কাটানো মানুষের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা ও মানসিক সুস্থতার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। মাটিতে অসংখ্য উপকারী অণুজীব বাস করে। তাই মাটি বা কাদার ভেতর হাঁটা শরীর ও মনের জন্য ভালো। তবে এর অর্থ এই নয়, যেকোনও কাদা নিরাপদ। দূষিত বা নোংরা কাদায় ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, পরজীবী ও রাসায়নিক থাকতে পারে। এক্ষেত্রে অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে।

শিশুদের সঙ্গে প্রকৃতির সংযোগ স্থাপন
আন্তর্জাতিক কাদা দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, শিশুদের প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা। কাদা নিয়ে খেলা তাদের কল্পনাশক্তি, সৃজনশীলতা এবং সংবেদনশীল দক্ষতা বিকাশে সহায়ক হতে পারে। এতে তারা প্রকৃতি, মাটি ও পরিবেশ সম্পর্কেও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পায়।

প্রদাহ কমার সম্ভাবনা 
কিছু গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, মাটির সঙ্গে সংযোগ শরীরের প্রদাহজনিত কিছু সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে এবং ব্যথা কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে, এসব ফলাফল যেহেতু প্রাথমিক পর্যায়ের, তাই এগুলোকে নিশ্চিত চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে ধরা হয় না। এসব নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে।

সচেতন থাকবেন যেসব বিষয়ে
কাদায় হাঁটার আগে জায়গাটি নিরাপদ কি না, নিশ্চিত করুন। নর্দমা, দূষিত পানি বা শিল্পবর্জ্য মিশ্রিত কাদায় কখনোই হাঁটবেন না। পায়ে কাটা বা ক্ষত থাকলে খালি পায়ে কাদায় নামবেন না। হাঁটার পর অবশ্যই সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে পা ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে নিন।

কাদায় হাঁটা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই নিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রাখা জরুরি। নিরাপদ পরিবেশে কাদায় হাঁটলে তা শরীর ও মনের উপকারে আসবে। তবে এটিকে কোনো চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানোর স্বাস্থ্যকর অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখুন।

সময়ের আলো/মহু


  বিষয়:   কাদা  হাঁটা  উপকারিতা  শরীর  মন  স্বাস্থ্য 


Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: