ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা খাবার, বিশেষ করে রান্না করা ভাত বের করে সরাসরি গরম না করে খাওয়ার অভ্যাস স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকেরা। ফ্রিজে রাখা এই ভাত সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও পুনরায় গরম না করে খেলে শরীরে জটিল ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটতে পারে।
সোমবার (১ জুন) বিকেলে ভারতীয় এক শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এই বিষয়ে সাধারণ মানুষকে জরুরি স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক পরামর্শ দিয়েছেন বিখ্যাত ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ড. জয়েশ শর্মা।
ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ড. জয়েশ শর্মা জানান, বাসা-বাড়িতে বেঁচে যাওয়া বা অবশিষ্ট ভাত নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করার জন্য ফ্রিজে রেখে দেওয়া অবশ্যই একটি ভালো অভ্যাস, কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় ভাতের স্বাভাবিক গঠন কাঠামোতে কিছু ক্ষতিকর পরিবর্তন আসে। তিনি উল্লেখ করেন, চাল ও ভাতে প্রাকৃতিকভাবেই ‘ব্যাসিলাস সেরিয়াস’ নামক একধরনের বিশেষ ব্যাকটেরিয়ার স্পোর থাকে। অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, চাল উচ্চ তাপমাত্রায় ভালোভাবে রান্না করার পরও এই শক্তিশালী ব্যাকটেরিয়াগুলো সম্পূর্ণ বেঁচে থাকতে পারে, যা পরবর্তীতে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে ফুড পয়েন্টজনিং তৈরি করে।
এই চিকিৎসকের মতে, রান্না করা গরম ভাত দীর্ঘক্ষণ বাসা-বাড়ির স্বাভাবিক বা ঘরের তাপমাত্রায় রেখে দেওয়া হলে ভাতে থাকা ওই ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াগুলো অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বংশবৃদ্ধি করে। আর ভাত ফ্রিজে রাখা হলে ব্যাকটেরিয়ার এই বংশবৃদ্ধির প্রক্রিয়াটি অনেকটাই ধীর হয়ে যায়। তবে ফ্রিজ থেকে বের করে সেই ঠান্ডা ভাত সরাসরি খেয়ে ফেললে অথবা সঠিকভাবে গরম না করলে পেটের নানাবিধ জটিল রোগ সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে। এই স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে এবং সুস্থ থাকতে ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ও পুষ্টিবিদেরা বেশ কিছু জরুরি বৈজ্ঞানিক করণীয় নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের প্রথম পরামর্শ হলো, চাল রান্না করার পর সেই গরম ভাত কোনোভাবেই দুই ঘণ্টার বেশি সময় খোলা অবস্থায় ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখা যাবে না, বরং দ্রুত ঠান্ডা করে তা ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, রান্না করা ভাত ফ্রিজে রাখার সময় ফ্রিজের তাপমাত্রা অবশ্যই ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখতে হবে, এতে ভাতে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ ঘটে না। তৃতীয়ত, ফ্রিজ থেকে বের করা ভাত খাওয়ার সময় কেবল একবারই গরম করা উচিত এবং ভাতের পরিমাণ বেশি হলে পুরো ভাত গরম না করে ঠিক যতটুকু খাওয়া হবে, ততটুকু আলাদা করে বের করে গরম করা ভালো।
সবশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, ফ্রিজের ঠান্ডা ভাত পুনরায় গরম করার সময় তা হালকা আঁচে না রেখে ফুটন্ত গরম পানিতে দিয়ে ভালো করে ভাপ উঠতে দিতে হবে এবং ভাপ ওঠার পর পানি ঝরিয়ে নামিয়ে পরিবেশন করতে হবে। চিকিৎসকেরা বলছেন, সামান্য অসচেতনতার কারণে ফ্রিজের বাসি খাবার থেকে দেহে বড় ধরনের টক্সিন বা বিষক্রিয়া তৈরি হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই খাবার অপচয় রোধে ফ্রিজ ব্যবহারের পাশাপাশি তা খাওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক নিয়মের প্রতি সবাইকে যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সময়ের আলো/টিএইচ