আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষকে জয়ী করতে হলে সবাইকে একাত্তরের মতো ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এসময় তিনি ধানের শীষ প্রতীকের জন্য ভোট চেয়ে জনগণকে নানা প্রতিশ্রুতি দেন এবং উত্তরের জেলা ময়মনসিংহ অঞ্চলে কর্মসংস্থান ও কৃষিখাতে বিএনপির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকালে ময়মনসিংহের সার্কিট হাউজ মাঠে এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘একাত্তর সালের যুদ্ধই হোক, চব্বিশের আন্দোলনই হোক, কে পাহাড়ি মানুষ কে সমতলের মানুষ কে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মানুষ এটি কিন্তু কেউ দেখেনি। রাজপথে সবাই পাশাপাশি আন্দোলন করেছে, একাত্তর সালে যুদ্ধে সবাই একসাথে যুদ্ধ করেছে। কে মুসলাম, কে খ্রিষ্টান, কে অন্য ধর্মের মানুষ-কেউ দেখে নাই। এবারও ১২ তারিখে নির্বাচনে আমাদের সকলকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ একসঙ্গে থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এক সঙ্গে থেকে যেভাবে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, স্বৈরাচার বিদায় করেছি, সামনের দিনেও যদি আমরা একসঙ্গে থাকি তাহলে অবশ্যই এই বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে আমাদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশের দিকে নিয়ে যেতে পারব ইনশাল্লাহ।’
তিনি আরও বলেন, ‘সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হয় তাহলে স্লোগান হবে একটাই। সেটা হলো- করব কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। সবার মনে রাখতে হবে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।’
এসময় বিএনপি চেয়ারম্যান ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোণা ও শেরপুরের বিএনপি দলীয় ২৪ প্রার্থীকে ধানের শীষ হাতে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আমি আপনাদের দায়িত্ব দিলাম, তাদেরকে বিজয়ী করে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন।’
‘ভোট কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে’
ভোর বেলা ভোট কেন্দ্রের সামনে লাইন করে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘ভোট শুরু হবে, সঙ্গে সঙ্গে ভোট দেওয়া শুরু করবেন। কিন্তু ভোট দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে চলে আসলে হবে না। ভোট কেন্দ্রের সামনে থাকতে হবে। ভোটের হিসাব কড়ায় গন্ডায় বুঝে নিয়ে আসবেন। বহু বছর হয়ে গেছে আমরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাইনি।’
তিনি বলেন, ‘এর আগে বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে ভোট লুটপাট করে নিয়ে গিয়েছে। এবার আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে। যাতে করে কেউ আমাদের ভোট লুটপাট করে নিয়ে যেতে না পারে।’
এসময় নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, সকলের জন্য স্বাস্থ্য কার্ড, বেকার সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থাসহ সরকার গঠন করলে কী কী করতে চান তার একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ধানের শীষের প্রার্থীদের জন্য ভোট চান তিনি।
বিদ্রোহীদের অনুসারীরা আসেনি সমাবেশে
এদিকে ময়মনসিংহের বিভাগীয় নির্বাচনি জনসভায় কিছুটা কম উপস্থিতির পেছনে নেতাকর্মীরা দুষছেন বিদ্রোহীদের। নেত্রকোণা জামালপুর শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে এই বিভাগীয় নির্বাচনি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে যোগ দেন ৫টি জেলার ২৪টি আসনের ধানের শীষের মনোনীত এমপি প্রার্থী।
সমাবেশে আসা নেতাকর্মীরা জানান, এই ২৪ আসনের মধ্যে প্রায় অর্ধেক আসনেই বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও, ভালুকা, ত্রিশাল, গৌরীপুর, নান্দাইল এবং হালুয়াঘাটের আসনগুলোতে শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে।
তাদের সমর্থক ও অনুসারীরা এই সমাবেশে যোগ দেননি। দলের বিরুদ্ধে গিয়ে ভোট করায় বেশিরভাগই দল থেকে বহিষ্কৃত। বিদ্রোহী প্রার্থীদের বড় একটি অংশ সমাবেশে উপস্থিত হননি। এ নিয়ে সমাবেশস্থলেই নেতাকর্মীরা বিচ্ছিন্নভাবে আলাপ করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন, বিদ্রোহীরা চাইলেও সমাবেশে আসতে পারেননিঅ। আবার অনেকে বহিষ্কার থাকায় দলের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি।
আগামীকাল যাবেন রাজশাহী
বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে থেকে প্রচারণা শুরু করবেন তারেক রহমান। সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে রাজশাহী যাওয়ার কথা রয়েছে তার। বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় একটি হোটেলে তরুণদের নিয়ে মতবিনিময় করবেন বলে জানা গেছে।
পরে দুপুরে রাজশাহী মাদ্রাসা মাঠে বিভাগীয় জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন। ওইদিন সন্ধ্যায় নওগাঁ এবং রাতে বগুড়ায় নির্বাচনি পথসভা করবেন তারেক রহমান। পরে তিনি নিজ বাড়ি বগুড়ার গাবতলিতে রাত্রিযাপন করবেন।
আগামী ৩০ জানুয়ারি দুপুরে বগুড়া নিজ নির্বাচনি এলাকায় ধানের শীষের জন্য ভোট চাইবেন তিনি বলে আরও জানা গেছে।
সময়ের আলো/কেএইচও