প্রায় চার বছর ধরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে দুই দেশের মোট ১৮ লাখের বেশি সেনা নিহত, আহত ও নিখোঁজ হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ইউক্রেনের তুলনায় রাশিয়ার সেনাবাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেশি। মোট ১৮ লাখের বেশি হতাহতের মধ্যে প্রায় ১২ লাখই রুশ সেনা। এদের মধ্যে ৩ লাখ ২৫ হাজারের বেশি সেনা নিহত হয়েছেন। বাকিদের বেশির ভাগ গুরুতর বা সাধারণভাবে আহত হয়েছেন। পাশাপাশি কয়েক হাজার রুশ সেনা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
সিএসআইএস বলেছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কোনো বড় সামরিক শক্তি এত বিপুলসংখ্যক সেনা হারায়নি। অর্থাৎ আধুনিক ইতিহাসে রাশিয়ার জন্য এই যুদ্ধ সবচেয়ে ভয়াবহ সামরিক ক্ষতির উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
ইউক্রেনের ক্ষয়ক্ষতিও কম নয়। গত চার বছরে দেশটির প্রায় ৬ লাখ সেনা নিহত, আহত অথবা নিখোঁজ হয়েছেন। সিএসআইএসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ইউক্রেনের ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার সেনা নিহত হয়েছেন। আহত ও নিখোঁজ সেনার সংখ্যা এর বাইরেও অনেক।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধ যদি এভাবেই চলতে থাকে, তাহলে ২০২৬ সালের বসন্তকাল নাগাদ মোট হতাহতের সংখ্যা প্রায় ২০ লাখে পৌঁছাতে পারে। এতে দুই দেশের সামরিক শক্তি, অর্থনীতি এবং সামাজিক কাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এই যুদ্ধের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও কৌশলগত উত্তেজনা। রাশিয়া চায় ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দিতে, আর ইউক্রেন চায় ন্যাটোর সদস্য হতে। এসব ইস্যুতে কয়েক বছর ধরে টানাপোড়েন চলার পর ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু হয়।
তিন বছরের বেশি সময় পার হলেও যুদ্ধ এখনো থামেনি। প্রতিদিনই দুই পক্ষের সেনা ও সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। আন্তর্জাতিক মহল বারবার যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি।
/ইউএমএইচ